মিরপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউএনও-কে সংবর্ধনা দিলেন এমপি আব্দুল গফুর: নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন
আশিক আলী,
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলায় প্রশাসনিক শিष्टाचार এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে নবনিযুক্ত মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান তিনি, যা নিয়ে স্থানীয় জনগণ এবং সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সংবিধান ও সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা শতভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে প্রজাতন্ত্রের কাজ পরিচালনা করার কথা। কিন্তু একজন সংসদ সদস্যের দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বহর নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে এভাবে সংবর্ধনা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতা। সাধারণত স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিরাই সংসদ সদস্যকে অভ্যর্থনা বা শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন। কিন্তু একজন এমপি যেভাবে দলবল নিয়ে ইউএনও-কে সংবর্ধনা দিতে গেলেন, তাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তার সামনে শক্তির মহড়া ও অপ্রকাশিত রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি বার্তা যায়।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “যেখানে উপজেলা পরিষদের প্রধান হিসেবে চেয়ারম্যানকেও প্রোটোকল ও প্রশাসনিক জায়গায় সম্মান জানানো হয়, সেখানে সংসদ সদস্য নিজে গিয়ে দলবল নিয়ে ইউএনও-কে এভাবে সংবর্ধিত করছেন। জাতীয় নীতি প্রণয়ন আর সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জায়গায় এমপি মহোদয়ের দলীয় বলয় নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরে এ ধরনের কর্মসূচি চালানো প্রশাসনিক প্রোটোকল ও কাঠামোর চরম পরিপন্থী।
প্রশাসনের দৈনন্দিন নিরপেক্ষ কার্যক্রমে দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের উপস্থিতি সুশাসনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক প্রোটোকল মেনে চলার জোর দাবি উঠেছে মিরপুর ও ভেড়ামারাবাসীর পক্ষ থেকে।