কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন
সুমন শেখ, জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়া, ২৭ জুলাই ২০২৬: “বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি কোর্ট) চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল আলম, জগতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় ডিএফও মো. রেজাউল আলম বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীদের জন্য বৃক্ষমেলা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও বেগবান করবে।