সিদ্ধিরগঞ্জে গণঅধিকার ও বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি মামলা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (৩৫), তার দুই ভাইসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলাম।অপরদিকে, গণঅধিকার পরিষদ নেতার ব্যবসায়ী অংশীদার ও তার সমর্থক মামলা করেছেন বিএনপি নেতা-সমর্থকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সরকার সমর্থক জোটের দুই দলের নেতা-সমর্থকদের এই পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি সমর্থকের দায়ের করা মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আরিফুল ইসলামের দুই ভাই মো. আল-আমিন ভূঁইয়া (৩৮) ও মো. সজীব ভূঁইয়া (২৫), মো. সেন্টু ভূঁইয়া (৩০) এবং আমজাদ হোসেন (৩৫)। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে, ১২ সেপ্টেম্বর গণঅধিকার পরিষদ নেতার ব্যবসায়ী অংশীদার ও তার সমর্থকের দায়ের করা মামলায় (নং-২৫) আসামিরা হলেন—মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মো. শহিদুল্লাহ, মো. নবীর হোসেন, আয়াত উল্লাহ, সুবেদ আলী, রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মোস্তফা কামাল। এর মধ্যে মোস্তফা কামাল এবং মোহাম্মদ আলী নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। বাকিরা বিএনপির কর্মী ও সমর্থক বলে জানা গেছে।
বিএনপি সমর্থকের দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার জনৈক সফিউদ্দিন মিয়া ও সুমন আহম্মেদের ৬০ শতাংশ জমি শফিকুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, সুবেদ আলী, শহীদুল্লাহ, মোহাম্মদ আলী ও জাকির হোসাইন সম্মিলিতভাবে রেজিস্ট্রি বায়নায় ক্রয় করেন। ৩ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ জোরপূর্বক অবৈধভাবে ভুক্তভোগীদের জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতরা নারায়ণগঞ্জ খানপুর (৩০০ শয্যা) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে একটি জমি এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকায় বায়না রেজিস্ট্রি সূত্রে মালিক হয়ে ভোগদখলে আছি। হঠাৎ আরিফুল ও তার দুই ভাইসহ আরও ১০-১২ জন মিলে আমাদের জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করে। এতে বাধা দেওয়ায় তারা শফিকুল ইসলাম, নবীর হোসেন ও রাজা মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তারা জমির মূল ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি বায়না করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ গিয়াসউদ্দিনের (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য) আমলে তার প্রভাব খাটিয়ে তাদের বায়না করা জমিসহ ৬০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে বায়না করে এবং ভূমি অফিসে টাকা দিয়ে তাদের মিউটেশন ক্যান্সেল করে দেয়। এতে তারা ‘মিসকেস’ করলে ভূমি অফিস থেকে ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তে আসে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে সাক্ষী দিতে গেলে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। সেই ঘটনায় উভয় পক্ষ অভিযোগ দিলে পুলিশ ১১ সেপ্টেম্বর তাদের মামলা এবং ১২ সেপ্টেম্বর অন্য পক্ষের মামলা রেকর্ড করে। আরিফুল ইসলাম আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তারা ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হককে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান জানান, তিনি নতুন যোগদান করায় এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।
তবে একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই মাসুম বিল্লাহ বলেন, মারামারির অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ নেতা, তার ভাই ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।