• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খা’দ্যগু’দা’ম থেকে ২ কো’টি টা’কা’র খাদ্যশস্য আ’ত্ম’সা’তে’র অ’ভি’যো’গে মা”ম”লা এলজিইডির সড়কে ইট বিছিয়ে ২০ লা’খ টা”কা খ’র’চ, তিন মাসেই তুলে ফে’ল’ছে পৌরসভা কু’রু’চি’পূ’র্ণ স্লো’গা’নে’র প্র’তি’বা’দে ভেড়ামারায় জামায়াতে ইসলামী বি’ক্ষো’ভ মি’ছি’ল ও স’মা’বে’শ অনু’ষ্ঠি’ত হয়েছে  পদ্মা নদী থেকে অ’বৈ’ধ বালু উ’ত্তো’ল’ন ব’ন্ধ ও নি’রা’প’ত্তা নিশ্চিতে রুল বিল ছাড় নিয়ে বা”গ’বি’ত’ণ্ডা, মোহাম্মদপুরে হাসপাতালে ভা’ঙ’চু:র জানুয়ারিতে ব’র্ধি’ত ম”জু’রি পাবেন পো’শা’কশ্র’মি’কে’রা গাংনী উপজেলা নি’র্বা’চন অফিসে সে’বা’র না’মে ভো’গা’ন্তি, টা’কা ছাড়া মে’লে না সে’বা, অ’ভিযো’গ ভুক্তভোগীদের গাংনীতে তহশিলদার হুমায়ুনের মা’সি’ক বাড়তি আয় লা”খ টা”কা, জি”ম্মি সাধারণ ভূমি মা’লি’করা ৩০% ক’মি’শ’ন না দিলে বি’ল পায়না ঠিকাদাররা কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী রাজু’র বি’রু’দ্ধে নানা অ’নি’য়’ম-দূ’র্নী’তি’র অ’ভি’যো’গ দফাদারের নাম ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদারের নতুন প’রি’চ’য় ‘গ্রাম পুলিশ’

এলজিইডির সড়কে ইট বিছিয়ে ২০ লা’খ টা”কা খ’র’চ, তিন মাসেই তুলে ফে’ল’ছে পৌরসভা

notuntimes / ২৫ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

পঞ্চগড় জেলা শহরের এলজিইডির আঞ্চলিক মহাসড়কে ইট বিছিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে পৌরসভা। অথচ তিন মাসের মাথায় নতুন করে সড়ক সংস্কারের জন্য সেই ইট তুলে ফেলা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে তোলার সময় ভেঙে যাচ্ছে অধিকাংশ ইট। পৌরসভার দাবি, উদ্ধার করা ইটের কোনো দাবি না করে এলজিইডিকে দেয়া হয়েছে। তবে অন্য দপ্তরের সড়কে পৌরসভার অর্থ ব্যয় এবং ইট হস্তান্তরের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সড়কটির চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত অংশে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি সড়কটি সংস্কার করবে, এমন তথ্য জানার পর দ্রুত ইট বিছানোর কাজ সম্পন্ন করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।এদিকে, সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে কি না এবং অন্য দপ্তরের সড়কে কাজ করে পৌরসভা কোনো বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে পঞ্চগড় জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। পরে সড়ক প্রশস্ত করতে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে দুই পাশে প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ করে জেলা পরিষদ। বর্ষায় ড্রেনের পাশের সড়কের অংশে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হলে সেখানে বালু ছিটিয়ে ইট বিছিয়ে দেয় পৌরসভা।

পৌরসভার দাবি, ২০২৪ সালের শেষদিকে ড্রেনের পাশের নরম মাটিতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ইট বিছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে নতুন করে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় সেই ইট তুলে ফেলা হচ্ছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় বাজার শ্যামলী বাস কাউন্টার হতে বানিয়াপাড়া কালভার্ট পর্যন্ত (সিনেমা রোড) প্রায় ৪২০ মিটার রাস্তার উভয় পাশে হার্ড শোল্ডার উন্নয়ন কাজ নামে একটি প্রকল্প ২০২৪ সালের মাঝামাঝি হাতে নেয় পৌরসভা। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৮৮ টাকা।একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় পৌরসভার উত্তর রামের ডাঙ্গা এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাইসা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ৩ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে সময় বাড়ানোর আবেদন করলে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এরপর দ্রুতগতিতে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শহরবাসীর অভিযোগ, পৌরসভার নিজস্ব অনেক সড়ক বেহাল থাকলেও অন্য দপ্তরের সড়কে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে ইট বিছানো হয়েছে। এখন সেই ইট তুলে ফেলা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুয়েল বলেন, এগুলো হচ্ছে লুকোচুরি খেলা। শহরের শোভাবর্ধন পৌরসভার করা উচিত। নাগরিকেরা আরও অনেক সেবা পাচ্ছেন না। নামে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, কিন্তু নিজেদের উন্নয়ন না করে অন্যের সড়কে ইট বিছিয়ে বাহবা নিতে গেছে। জবাবদিহি না থাকায় তারা যা ইচ্ছা তাই করছে।শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ভূট্টু বলেন, পৌরসভা এতটাই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে নিজেদের ফান্ডের টাকা অন্য রাস্তায় খরচ করছে। এখনো পৌরসভার অনেক রাস্তার বেহাল দশা। অনেক সড়কে বাতি নেই। শিশুদের প্রতিও তাদের নজর নেই। উল্টো এলজিইডির সড়কে নিম্নমানের ইট বিছিয়ে সেগুলো আবার কোনো দাবি ছাড়াই দিয়ে দিয়েছে। কোন আইনের ফাঁক দেখিয়ে তারা এগুলো করেছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে বলেন, সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর সাবেক জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাদের ইট বিছিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজটি করা হয়েছে।

এলজিইডি সড়কটি সংস্কার করবে এমন তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল, এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এলজিইডি কবে কাজ শুরু করবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় না পাওয়ায় সাবেক জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় কাজটি করা হয়।

প্রণব চন্দ্র দে আরও বলেন, সড়কে বিছানো ইট বর্তমানে তুলে ফেলা হচ্ছে। ইটগুলো সেলভেজ বা উদ্ধার দেখিয়ে নো অবজেকশন (না দাবি) চেয়েছে এলজিইডি। আমরা তাদের সেটি দিয়েছি।

পঞ্চগড় পৌরসভার প্রশাসক সীমা শারমিন বলেন, স্থানীয়দের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বর্ষায় চলাচলের সুবিধার জন্য ওই সড়কে ইট বিছানোর কাজ হাতে নেয়া হয়। তার দাবি, পৌরসভা কাজ শেষ করার পর এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।

তবে ওই সড়কে পৌরসভা কাজ করতে পারবে কি না এবং সেলভেজ ইট এলজিইডিকে দেওয়ার নিয়ম আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান পৌর প্রশাসক।

এদিকে, এলজিইডি জানিয়েছে, চৌরঙ্গী মোড় থেকে বানিয়াপট্টি কালভার্ট পর্যন্ত ৪২০ মিটার সড়ক ১০ ইঞ্চি উচ্চতার আরসিসি সড়ক হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজার ২৮৫ টাকা। মেসার্স তানিয়া কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

পঞ্চগড় এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনোজ কুমার আচার্য বলেন, পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করে ইটগুলো সেলভেজ বা উদ্ধার হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেগুলোর মৌখিক বা লিখিত নো অবজেকশন (না দাবি) অবশ্যই আছে। তাদের সঙ্গে কথা না বলে কাজ শুরু করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, ওই সড়কে আমরা দুই কোটি টাকা খরচ করে ৪২০ মিটার আরসিসি সড়ক করছি। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সুবিধা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!