কুষ্টিয়ায় দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় গভীর রাতে মুখোশধারী দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গুলিবিদ্ধদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিস্তল ও শর্টগানের গুলি লেগে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬) এবং তার পিতা মো. হাফেজ প্রামানিক (৭০)।
গুলিবিদ্ধ অন্যান্যরা হলেন, সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) এবং তার স্ত্রী মেরিনা (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল মুখোশধারী দুষ্কৃতকারী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় রবিউল ইসলামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা ব্রাশফায়ার করে এবং শর্টগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পেছনে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধ থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা করা হচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।