কুষ্টিয়ার বটতৈল ইউনিয়নে আলোচিত লায়লা ও তার বোন মাদকসহ আটক! ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড
সামছুল হক রুবেল : কুষ্টিয়ার বটতৈল ইউনিয়নের বটতৈল ক্যানাল পাড়ার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী লাইলা বেগম ও তার বোন শ্যামলীকে মাদকসহ আটক করেছে স্থানীয় জগতি ক্যাম্পের পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে এস আই সালাউদ্দিন সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে বটতৈল ক্যানাল পাড়ায় এক অভিযান চালিয়ে মাদক সহ তাদের আটক করে। আটকের পর পালাতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো নানাভাবে পুলিশকেই হুমকি ধামকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ পুলিশের। পরে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুজনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ এক্সিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসমা ছিদ্দিকা।
আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী লায়লা বেগম ও তার বোন শ্যামলী এর বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক অভিযোগ থাকলে সম্প্রতি মুফতি আমির হামজা এমপির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন লায়লা।
লাইলা একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিটিং মিছিলে টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় লোক সরবরাহ করায় কতিপ্য় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে তার ভালো সখ্যতা রয়েছে। যে কারনে সে প্রকাশ্যে মাদকের কারবারি চালালেও স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় লায়লা, বোন শ্যামলী খুচরা মাদকের বেচাকেনা করলেও এখন তাদের ভাই ও শ্যামলীর স্বামী বোনহুরকে নিয়ে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তারা সকলেই একএকটা মাদকের ডিলার। সব ধরনের মাদকের কারবারি রয়েছে তাদের। স্ত্রী আটক হলে ব্যবসায় হাল ধরেন স্বামী বা ভাই।
আটককৃত লায়লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে লায়লা ও তার বোন শ্যামলীকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
পুলিশ জানায়, লায়লা ও শ্যামলীকএ মাদক সহ আটকের পর আটককৃতদের ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে লায়লা পুলিশ সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বলেন, আমরা খুব শিগগির ফিরে আসবো এবং তোদের (পুলিশ) কুষ্টিয়া ছাড়া করবো।
অভিযানে অংশ নেয়া এসআই সালাউদ্দিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকিতে পুলিশ বিচলিত হবে না।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই লায়লার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকায় তার আটকের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।