কুষ্টিয়ার জুগিয়ায় গোপিনাথপুর মৌজায় গড়াই নদী খনন প্রকল্পের বালু অপসারণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে কার্যদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) বুঝে নেওয়ার কথা থাকলেও, তা না করেই বালু সরিয়ে নিচ্ছে ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বসির এন্টারপ্রাইজ’।
গড়াই নদী খনন প্রকল্পের অধীনে সংরক্ষিত প্রায় ১১ লক্ষ ঘনমিটার বালু বিক্রির জন্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড টেন্ডার আহ্বান করে। এর মধ্যে গোপিনাথপুর মৌজার বালু বিক্রির টেন্ডারে ৮ কোটি ৫৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় বসির এন্টারপ্রাইজ। তবে শিডিউল অনুযায়ী গ্যারান্টি বা জামানত হিসেবে মাত্র ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে দিয়েছে চক্রটি।
সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে কোনো টাকা জমা না দিয়েই রাতের আধারে শত শত ট্রাক বালু চুরি করে করা হচ্ছে।
এতে সরকারের কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র এই লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে বালু বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অফিস ম্যানেজ করার চেষ্টা: অভিযোগ আছে যে, বসির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বসির উদ্দিন পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং অবৈধ কার্যক্রম জায়েজ করতে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো ম্যানেজ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বেলা বন্ধ থাকলেও রাতে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে ড্রাম ট্রাকে বালু পাঠানো হচ্ছে জেলা ও জেলার বাইরে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা টাকা পরিশোধের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করার সক্ষমতা নিয়ে খোদ বসির উদ্দিনের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পেছনে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বা অসাধু সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, বশির এন্টারপ্রাইজকে টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।