জুলাই হত্যা মামলার পলাতক আসামির বালু ঘাটের ক্ষমতা বিএনপি নেতার হাতে! কুষ্টিয়াজুড়ে তীব্র আলোচনা
কুষ্টিয়ার বহুল আলোচিত জুলাই হত্যা মামলার এক পলাতক আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মহিদুল ইসলামের বালু ঘাট-সংক্রান্ত ব্যবসার ক্ষমতা কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এ. কে. বিশ্বাস বাবুর কাছে হস্তান্তরের নোটারিকৃত দলিল প্রকাশ্যে আসায় জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত দলিল অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত একটি ক্ষমতা হস্তান্তরনামার মাধ্যমে গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বালু উত্তোলন ও বিক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা এ. কে. বিশ্বাস বাবুর কাছে অর্পণ করা হয়।
বর্তমানে দলিলদাতা মো. মহিদুল ইসলাম বহুল আলোচিত জুলাই হত্যা মামলার একজন পলাতক আসামি হিসেবে মামলাভুক্ত। এমন একজন আসামির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের দায়িত্ব বিরোধী রাজনৈতিক দলের একজন শীর্ষ নেতার হাতে যাওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, “রাজনৈতিকভাবে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা দুই দলের নেতার মধ্যে এমন ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদি দলিলটি সঠিক হয়, তাহলে বিষয়টি দলীয়ভাবেও খতিয়ে দেখা উচিত।”

এদিকে, একজন হত্যা মামলার পলাতক আসামির নামে পরিচালিত ব্যবসার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও আইনি প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের লেনদেনের বৈধতা নির্ভর করে দলিল সম্পাদনের সময় প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটির ওপর।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এ. কে. বিশ্বাস বাবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ব্যক্তির দায় দল নেবে না। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকেন, তার দায় তার নিজের। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।