• মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং

notuntimes / ৪৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আরেকটি মাইলফলক গড়তে চলেছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম (ফুয়েল) লোডিংয়ের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে।

বিকেল ৩.৩৫ টায় ফুয়েল লোডিং কার‌্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এ জন্য চলছে সাজসাজ বর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এতে রোসাটম, আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার প্রতিনিধির যোগদানের কথা জানা গেছে।

আগস্টে সঞ্চালন লাইনে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে ১৪ মাসের মতো সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পের শুরুতে প্রথম ইউনিটে ২০২২ সালে ফুয়েল লোডিং এবং ২০২৩ সালে শেষে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দফায় পেছানো হয় ফুলেড লোডিং পরিকল্পনাও।

দফায় দফায় পিছিয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। বড় ধাক্কা আসে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে। তখন জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্স ২৩৩/৪০০ কেভি জিআইএস সাব স্টেশন সরবরাহ থেকে সরে যায়। শেষ সময়ে সাব স্টেশন নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় চীনা কোম্পানিকে। অন্যদিকে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের তদারক প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় উভয় পক্ষ বসে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট (গণ মাধ্যম) সৈকত আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ফুয়েল লোডের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ফুয়েল লোডের পর পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ৩ শতাংশ, এরপর যথাক্রমে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৪ মাস পর যখন ৩০ শতাংশ হারে উৎপাদন শুরু করবে তখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এরপর পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে আরও সময় লাগবে ১০ মাসের মতো। অর্থাৎ সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জুনে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে প্রথম ইউনিট। একইভাবে আরও একবছর পরে ২য় ইউনিট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে। পরীক্ষামূলকভাবে শুরুর পর প্ল্যান্টটি বন্ধও করা হতে পারে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন একবার শুরু করার পর টানা দেড় বছর চলতে থাকবে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পে সিংহভাগ অর্থায়ন দিয়েছে রাশিয়া। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়ন রয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। পরমাণু বিদ্যুতে সবচেয়ে সুবিধার দিক হচ্ছে ৬০ বছর এর দর কোন ওঠা-নামা করবে না। একই দরে ৬০ বছর নিরবিচচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।তবে এখনও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়নি বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) দাবি করেছে।

তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে পরিচিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলে তেল ভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে চায় বাংলাদেশ। এতে করে গড় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪১৬টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। সেগুলো থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ মোট উৎপন্ন বিদ্যুতের প্রায় ৯ শতাংশ। ১৫টি দেশে আরও ৬৩টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশসহ নবাগত দেশসমূহে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!