অতিরিক্ত এসপিকে ফাঁসাতে নারী সহকর্মীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন শাখায় মানবপাচার ও দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত এসপি) মেহেদী হাসানকে ফাসাতে তারই এক নারী সহকর্মীর নাম ব্যবহার করে গত ১৪ জুন পুলিশ সদরদপ্তরে একটি ভুয়া হয়রানির অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
তবে ভুক্তভোগী দাবি করা ওই নারী কর্মকর্তা এসআই (নি:) ফারজানা ইসলাম নিজেই এমন কোনো অভিযোগ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তেও তথ্য মিলেছে, ইমিগ্রেশনের একটি অপরাধী চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগায় এই সাজানো অভিযোগটি তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও এসবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, ইমিগ্রেশনে মানবপাচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত এসপি মেহেদী হাসান সবসময়ই শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আর এই কারণেই একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই কর্মকর্তার ক্যারিয়ার ও সুনাম নষ্ট করতে তারা গত ১৪ জুন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এই মিথ্যা অভিযোগটি জমা দেয়। তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মেহেদী হাসান একজন অত্যন্ত দক্ষ ও ভালো পুলিশ কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে যে নারী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেই এসআই (নি:) ফারজানা ইসলাম বর্তমানে এসবির ইমিগ্রেশন শাখাতেই সুনামের সঙ্গে কর্মরত আছেন। এই ভুয়া অভিযোগপত্রের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এসবির ইমিগ্রেশন শাখার এসআই (নি:) ফারজানা ইসলাম তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন টাইমসকে বলেন, আমি আমার ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ দিইনি। আমার অজান্তে, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম ও পদবি ব্যবহার করে এই ভুয়া অভিযোগপত্রটি তৈরি করা হয়েছে। মূলত একটি অপরাধী চক্র তাদের নিজেদের অন্যায় ও দুর্নীতি ঢাকতে আমাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আমাকে ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জড়িয়ে এই নোংরা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, যার সাথে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর বা বিভাগীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমন একটি সংবেদনশীল চিঠি পুলিশ সদ রদপ্তরে জমা পড়ার ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। এটি পরিষ্কার ইঙ্গিত করে যে, এর নেপথ্যে ইমিগ্রেশনের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় একটি সুসংগঠিত এবং প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে। মূলত অতিরিক্ত এসপি মেহেদী হাসানের দুর্নীতিবিরোধী অনমনীয় অবস্থানকে বিতর্কিত করতেই এই নারী কর্মকর্তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়েছে সিন্ডিকেটটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অতিরিক্ত এসপি মেহেদী ইমিগ্রেশনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের রুট বন্ধ করতে বড় ভূমিকা রাখছেন। তার এই কঠোর অবস্থানের কারণে ইমিগ্রেশনের ভেতরের কিছু অসৎ কর্মকর্তা এবং বাইরের দালাল চক্রের অবৈধ আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েই এই চক্রের নেপথ্য নায়কেরা এই কর্মকর্তাকে সরাতে এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই নোংরা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
জানা যায়, এ,এসপি মেহেদী হাসান একজন জনবান্ধব ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর দপ্তরে সেবা নিতে আসা অনেকেই জানান, তিনি সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং আইনগত সীমার মধ্যে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সেবাপ্রত্যাশীর মতে, তাঁর আন্তরিকতা, সৌজন্যপূর্ণ আচরণ ও দায়িত্বশীল কর্মপ্রচেষ্টা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।