• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী শী’র্ষ চ’রম’প’ন্থী মুকুলের সা’ম্রা’জ্য: দক্ষিণাঞ্চলের চ’র’মপ’ন্থী জগতের নে’পথ্যে’র কা’হি’নি শ্রীলঙ্কার বি’প’ক্ষে লাঞ্চ বিরতির আগে ভারতের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১০১ রান রবীন্দ্রনাথের ম’হাপ্র’য়া’ণ বা’র্ষিকী’তে কুষ্টিয়ায় সাহিত্য স’ভা ভেড়ামারায় সাংবাদিকদের ১দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আপনার মতো বহু ইউএনওকে লা’থি দিয়ে বে’র করতে পারি:বিএনপি নেতার ব’ক্ত’ব্য ভা’ই’রাল বাপেরে ও’রা ১৫ জনে মি’ই’ল্লা কোপা’ই’ছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে কো’পা’ই’ছি ওরে’ ঝিনাইদহে আ’ধি’প’ত্য বি:স্তা:র নিয়ে দু’প’ক্ষের সং’ঘ’র্ষে ১০ জন আ’হ’ত কুষ্টিয়ায় অ’স’হা’য় ভ্যান-রিকশা চালকদের মাঝে ১৫০ ছাতা বিতরণ

শী’র্ষ চ’রম’প’ন্থী মুকুলের সা’ম্রা’জ্য: দক্ষিণাঞ্চলের চ’র’মপ’ন্থী জগতের নে’পথ্যে’র কা’হি’নি

notuntimes / ৬৫ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

শীর্ষ চরমপন্থী মুকুলের সাম্রাজ্য: দক্ষিণাঞ্চলের চরমপন্থী জগতের নেপথ্যের কাহিনি

দেশের দক্ষিণের জেলা কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় একক রাজত্ব কায়েম করেছেন শীর্ষ চরমপন্থী নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুল। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে অন্তত অর্ধশত। এ ছাড়া তার অস্ত্র ভান্ডারে রয়েছে এম-১৬, একে-৪৭ ও একে-৫৬ মডেলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলছেন তার ক্যাডাররা। যার সংখ্যা দেড় শতাধিক। মুকুল মালয়েশিয়াতে বসে তার ক্যাডারদের পরিচালনা করছেন। তার ভয়ে প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিচ্ছেন এই তিন জেলার অনেক ব্যবসায়ী। এরপরও ভয়ে মুখ মুখছেন না কেউ।

মুকুলের ক্যাডারদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযানের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে তুলে এনেছে মুকুলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের আদ্যোপান্ত। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে সরকারদলীয় রাজনীতিতে জড়ানোরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুকুল যার একটি ভিডিওচিত্র পেয়েছে প্রতিদিনের বাংলাদেশও, যেখানে দেখা গেছে এই চরমপন্থী নেতা টেলিকনফারেন্সে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম মুকুল বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেপাল ও ভারতে বসে একের পর এক কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেছেন। তার নির্দেশে দেশে থাকা ক্যাডারদের হাতে গত দেড় যুগে খুন হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। যাদের মধ্যে ৪৪ জনের নাম-পরিচয় খুঁজে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পলাতক থাকলেও তার নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল ও অস্ত্র ব্যবসা থেমে নেই। তার ক্যাডার বাহিনীর নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে অনেকটা নির্বিঘ্নে। মোবাইল ফোনে তার সব নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে মুকুলের ডান হাত হিসেবে পরিচিত তার শ্যালক ‘শালাবাবু’ খ্যাত সাইদুল ও মোস্তফা।মুকুলের নেতৃত্বে শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজের আত্মপ্রকাশ ও টার্গেট কিলিং।

সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের দিকে মুকুল-শাহিন ও গামার নেতৃত্বে শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজ নামে চরমপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ‘শ্রেণিশত্রু’ আখ্যা দিয়ে টার্গেট কিলিংয়ে মেতে ওঠে তারা। গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ নেতা মুকুল ও তার বাহিনীর টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঐ সময় মুকুলের হাতে নিহত হন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমির ব্যক্তিগত সহকারী কুমারখালী থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রাশিদুল চেয়ারম্যান। ১৯৯৯ সালের ১৭ জানুয়ারি জিয়ারখী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শৈলগাড়ির রফিকুল মেম্বারকে শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম মুকুল ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। ২০০১ সালের ১৩ অক্টোবর আড়ুয়াপাড়ার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দীন মদনকে গুলি করে হত্যা করে মুকুল বাহিনীর সদস্যরা। একই দিনে কুষ্টিয়া সদরের স্বস্তিপুর গ্রামের জিয়া, তোতা ও মিজানকে একই জায়গায় নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওইদিন রাতে দহকুলা নোয়াপাড়ার রুহুল খোড়াকে গুলি করে হত্যা করে মুকুল বাহিনী।

২০০২ সালের ১২ ডিসেম্বর আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিএনপি নেতা খন্দকার এলাহী বক্সকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বস্তিপুর মাঠের মধ্যে পুঁতে রাখে। ২০০৩ সালের ৬ জুন নাটোর লালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ হোসেনকে গুলি করে বোমা হামলা করে হত্যা করে।২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল ভাদালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বাদশা ও আলী হোসেনকে ভাদালিয়া বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে মুকুল বাহিনী। ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া থানাপাড়ার বাসিন্দা হাবিব ঠিকাদারকে গুলি করে হত্যা করে মুকুল-শাহীন। ২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর রাতুলপাড়ার বকুল সওদাগরকে নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় গুলি করে হত্যা করে। ২০০৯ সালের ২০ মে কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিল হোসেন বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০৯ সালের ২৩ জুন সাংবাদিক জাফরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করে সন্ত্রাসী মুকুলের বাহিনীর লোকজন। পরবর্তীতে দৌলতপুরের ফিলিপ নগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট ভেড়ামারার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মেহেরুল আলমকে গুলি করে হত্যা করে।

এছাড়াও শৈলকুপা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া থানাপাড়ার ব্যবসায়ী ভিপি শহীদ, কালিশংকরপুরের ব্যবসায়ী নান্নু, ভাদালিয়াপাড়ার রমিজ, কোর্টপাড়ার জাসদ নেতা জামাইবাবু, কালিশংকরপুরের কলেজছাত্র আরিফুর রহমান আরিফ, কুষ্টিয়া সদরের ভবানীপুরের মোজাম, শৈলগাড়ির আদিলকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে মুকুল বাহিনী। নাটোর সদর আসনে বিএনপির এমপি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা গামাকে কুপিয়ে ও বোমা মেরে হত্যা করে। ঝিনাইদহ সদরের বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন, ঝিনাইদহ আরাফপুরের ব্যবসায়ী সুবুত কুন্ডুকে হত্যা করেছে। মেহেরপুরের গাংনী থানার চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর ইলিয়াস হোসেন এই বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাননি। তাকেও হত্যা করেছে গুলিতে। কুমারখালীর ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ, কুষ্টিয়া সদর মোল্লাতেঘোরিয়ার ব্যবসায়ী আনারুল ও শিপন, বটতৈল সেনের চাতালের শাহআলম, ইবি থানা এলাকার লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ী রানাকে হত্যার পর লাশ ২০ টুকরা করে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয় মুকুল বাহিনী। দূর্বাচারার মুকতার হোসেন মিলন, চুয়াডাঙ্গার দর্শনার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, স্বর্গপুরের রজব আলীর ছেলে সোহেল, দহকুলা নোয়াপাড়ার আনসার আলীর ছেলে রামদার, দহকুলা নোয়াপাড়ার ইন্তাজ আলীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী শহীদুল, খোকসার ধীরেন বিশ্বাসের ছেলে গণেশ বিশ্বাস, কালিশংকরপুরের আক্তার হোসেন, কালিশংকরপুরের হেদায়েত হোসেনের ছেলে শফি, কুষ্টিয়া লাহিনী পাড়ার রফিকুল ইসলাম, খোকসার ওসমানপুরের আবু খন্দকার নির্মম হত্যার শিকার হয়েছে মুকুল বাহিনীর। খোকসা আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান ও আনসার আলী ভুট্টোসহ তিনজনকে শিলাইদহ ঘাটে নির্মমভাবে খুন করে মুকুল বাহিনী। বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম দুলালকে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার হাউজিং এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের ৭ জুলাই কুষ্টিয়ার সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেলকে হত্যাসহ অনেক বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে গণমুক্তিফৌজের প্রধান আমিনুল ইসলাম মুকুল ও তার বাহিনী।

বিচারাধীন ২৯টি মামলা

চরমপন্থী নেতা মুকুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিচারাধীন আছে খুন, সন্ত্রাস, লুটপাট ও আগ্নেয়াস্ত্রের ২৯টি মামলা। এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া থেকে মুকুলকে ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক তৎপরতা শুরু হয়েছে তিন জেলায়। অন্যদিকে মুকুল বাহিনীর লাগাম টেনে ধরতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরেক দফা সাঁড়াশি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাবের ক্রিমিনাল ডাটা বেজ (অপরাধী তালিকা) থেকে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম মুকুলের জন্ম কুষ্টিয়া সদরের আলামপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ফজলুল হক বিশ্বাস। মাতা আনোয়ারা বেগম। ৫৬ বছর বয়স্ক এই সন্ত্রাসী এসএসসি পাস। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। মুকুলের স্ত্রী সাহিদা খাতুন ওরফে দুখু এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বসবাস করেন।

প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, মুকুল বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার বাহিনীর হাল ধরেন সাহিদা খাতুন ওরফে দুখু। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডিতে বসে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। কিন্তু একপর্যায়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েন তিনিও। কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বিদেশি অস্ত্রসহ। কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়েই সাহিদা তার ভাই সাইদুল ও মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে ফের আন্ডারওয়ার্ল্ডে যোগাযোগ শুরু করেন। এর পরে থেকে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের পর থেকে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, এম-এল জনযুদ্ধ কিংবা এম-এল লাল পতাকার মতো অসংখ্য বাহিনী দমন করতে সক্ষম হয় র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর ওইসব সংগঠনের নাম-নিশানাও মুছে যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উগ্র চরমপন্থী সংগঠন শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজের বেশিরভাগ সদস্য একের পর পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা পড়ে। অভিযানে মুকুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্তত ১৮ জন মারা পড়েন। এদের মধ্যে টিক্কা, একদিল, দুলাল, রাশিদুল, গামা, সাদ্দাম, নবীন, মজিদ, এহসান কাজী, সিদ্দিক, মফিজ, মোহাম্মদ আলী, মান্নান মোল্লা, শাহিন ও হামিদুল অন্যতম। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শীর্ষ নেতা মুকুল। দেশের বাইরে থেকে খুনখারাবির কলকাঠি নাড়েন মুকুল

সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এভাবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর একপর্যায়ে ২০০৮ সালে মুকুল ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর জেল খেটে ২০১১ সালের জুনে জামিনে ছাড়া পান। জেল থেকে বেরিয়ে পুনরায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে ঢুকে পড়েন মুকুল। এরপর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফা ভারতীয় সিআইডির হাতে ধরা পড়েন। এ সময় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এ সুযোগে তিনি সিআইডির কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। এবার তিনি নেপালে যান। সেখান থেকে যান মালয়েশিয়ায়। বর্তমানে মালয়েশিয়াতে বসেই খুন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নাটাই ঘোরাচ্ছেন।

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, মুকুল বাহিনীর কাছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। মুকুল নিজে ব্যবহার করেন অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল। তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গেও যুক্ত। তার অস্ত্রের জোগান আসে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে।পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুকুলের কাজের সহযোগী ছিলেন দলটির একাধিক প্রভাবশালী নেতা। এর মধ্যে মিরপুর ভেড়ামারা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কামারুল আরেফিন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, তার ব্যক্তিগত সহকারী আমজাদ হোসেন রাজু, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার ভাই আতা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া থেকে শুরু করে হাট-ঘাট দখলে ব্যবহার করতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মুকুলকে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতেন সন্ত্রাসী মুকুল। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এরা মূলত মুকুলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!