ফেনীর সোনাগাজীতে ইউটিউব দেখে বিকল্প উপায়ে অকটেন তৈরি করতে গিয়ে নুর আলম মাসুদ নামের এক যুবক মারা গেছেন। ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার চার দিন পর আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ‘সততা অয়েল মিলস’-এর মালিক ছিলেন।

গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল প্রাইমারি এলাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একটি পাইপ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর দগ্ধ হন নুর আলম মাসুদ ও তাঁর সহকর্মী মো. ওমর ফারুক। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। চার দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সহকারী ওমর ফারুক চিকিৎসাধীন।নিহত নুর আলম মাসুদ সদর ইউনিয়নের ওমর খান পাঠানবাড়ির মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে। তিনি পৌরসভার নজরুল প্রাইমারি এলাকার সাহাব উদ্দিনের নতুন বাড়িতে বসবাস করতেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
রেজাউল করিম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাসুদ অত্যন্ত বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন। এই দুর্ঘটনার আগের রাতেও নজরুল প্রাথমিক যুব সমাজের উদ্যোগে মাহফিল আয়োজনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়াতে আমরা শোকাহত।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক জিয়া উদ্দিন হৃদয় বলেন, তিনি প্রায় সময়ই দেখতাম তিনি ইউটিউব দেখে দেখে নতুন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করতেন। সম্প্রতি অকটেন তৈরির একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। হঠাৎ বিস্ফোরণে আহত হয়ে এমন মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃতের ভাই মোর্শেদ বলেন, আমার ভাই নতুন একটি পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির কাজ করছিলেন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পাইপ বিস্ফোরিত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।