একাধিক অভিনব কৌশলে ভ্যান ছিনতাই চক্রকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে ইবি থানা পুলিশ
তিতাস আহম্মেদ
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক ও ছিনতাই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডিবি পুলিশের পরিচয়, হাত বেঁধে ভুয়া অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা অভিনব কৌশলে দরিদ্র চালকদের ব্যাটারিচালিত নিয়মিত ভ্যান ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এতে সর্বস্ব হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় ভ্যানচালকরা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে ইবি থানা এলাকায় এই চক্রের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট জোড়াদাহ এলাকার বিটু (২৯) নামের এক ভুক্তভোগী জানান, জোড়াদাহ বাজার থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় একটি সোফা নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথিমধ্যে মধুপুর কলার হাট নামক এলাকায় পৌঁছালে চক্রটি তাকে মাঠের মধ্যে একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে হাত বেঁধে ভীতি প্রদর্শন করে তার ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। পরবর্তীতে তিনি নিজেই বাঁধন খুলে মধুপুর বাজারে এসে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আরেক ভুক্তভোগী কুমারখালী উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত নজির শেখের ছেলে আব্দুল করিম (৫০) জানান, লক্ষ্মীপুর দায়খালীপাড়া মসজিদের সামনের একটি বাড়িতে তাকে কোনো এক লোক ডেকে পাঠায়। তিনি ঘরের ভেতর যাওয়ার সুযোগে চক্রটি তার ভ্যান নিয়ে চম্পট দেয়।
গত ১৩ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে হরিনারায়ণপুর দিশা এনজিও থেকে টাকা তোলার কথা বলে এক ব্যক্তি ভ্যানটি ভাড়া করেন। চালককে এনজিও অফিসে লোক পাঠিয়ে তিনি ঠিকমতো অফিস খুলেছে কি না দেখতে বলেন। চালক ফিরে এসে দেখেন তার ভ্যান ও ভাড়াটে উধাও।
২১ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৃত্তিপাড়া লালন ফিলিং স্টেশনের পাশ থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের নাটক সাজিয়ে আরেকটি ভ্যান ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক দিশেহারা হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন।
এ বিষয়ে ইবি থানাধীন বিভিন্ন ক্যাম্পের আইসিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বাজার এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে গিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। চালকদের সচেতন করতে চক্রের সদস্যদের ছবিসংক্রান্ত প্রচার করা হয়েছে এবং চালকদের সন্দেহজনক কিছু মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশি এই সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনূর রশীদ জানান, ভ্যান চুরির ও ছিনতাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইবি থানার প্রতিটি ক্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধীদের ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়া গেছে। দ্রুত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হবে।