• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
এবার কঙ্কাল চু’রি’র আ’ত’ঙ্কে রাত জে’গে কবর পা’হা’রা সী’মা’ন্তে’র শূ’ন্য’রে’খা’য় বাবার ম”রা মু”খ দে’খ’লে’ন মেয়ে ইবি’র রনজিতপুরে বৈ’দ্যু’তি’ক শ’র্টসা’র্কি’টে বসতঘর পু’ড়ে ছা’ই  খা’দ্যগু’দা’ম থেকে ২ কো’টি টা’কা’র খাদ্যশস্য আ’ত্ম’সা’তে’র অ’ভি’যো’গে মা”ম”লা এলজিইডির সড়কে ইট বিছিয়ে ২০ লা’খ টা”কা খ’র’চ, তিন মাসেই তুলে ফে’ল’ছে পৌরসভা কু’রু’চি’পূ’র্ণ স্লো’গা’নে’র প্র’তি’বা’দে ভেড়ামারায় জামায়াতে ইসলামী বি’ক্ষো’ভ মি’ছি’ল ও স’মা’বে’শ অনু’ষ্ঠি’ত হয়েছে  পদ্মা নদী থেকে অ’বৈ’ধ বালু উ’ত্তো’ল’ন ব’ন্ধ ও নি’রা’প’ত্তা নিশ্চিতে রুল বিল ছাড় নিয়ে বা”গ’বি’ত’ণ্ডা, মোহাম্মদপুরে হাসপাতালে ভা’ঙ’চু:র জানুয়ারিতে ব’র্ধি’ত ম”জু’রি পাবেন পো’শা’কশ্র’মি’কে’রা গাংনী উপজেলা নি’র্বা’চন অফিসে সে’বা’র না’মে ভো’গা’ন্তি, টা’কা ছাড়া মে’লে না সে’বা, অ’ভিযো’গ ভুক্তভোগীদের

এবার কঙ্কাল চু’রি’র আ’ত’ঙ্কে রাত জে’গে কবর পা’হা’রা

notuntimes / ২৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

এবার কঙ্কাল চু’রি’র আ’ত’ঙ্কে রাত জে’গে কবর পা’হা’রা

পাবনায় বজ্রপাতে নিহত ছয়জনকে হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক। কবর থেকে কঙ্কাল চুরির আশঙ্কায় রাত জেগে প্রিয়জনের কবর পাহারা দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পালাক্রমে চলছে এ পাহারা।স্বজনদের দাবি, কবরস্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, কবরস্থানের আশপাশে পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে পাবনা সদর উপজেলার বাসুদেবপুর কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে দলবেঁধে কিংবা পালাক্রমে কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজনরা। প্রিয়জনের কবরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের ঘুম বিসর্জন দিতে হচ্ছে তাদের। কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই পাহারার ব্যবস্থা করেছেন তারা।

স্বজনরা জানান, শুধু রাত জেগে কবর পাহারা দেওয়াই নয়, এ আতঙ্কে নিজেদের বাড়িতেও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না তারা। প্রিয়জনের কবরের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। তাই প্রশাসনের উদ্যোগে কবরস্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে স্বজনদের কবরের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কমবে এবং নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকতে পারবেন বলে আশা তাদের।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিলা ও ঝপঝপিয়া বিল এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুন্ডা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২৪), নলমুড়া এলাকার ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল মোল্লা (২০), শাজাহান প্রামানিকের ছেলে মিজানুর রহমান (১০), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১৪), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮) এবং ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।

পরদিন বাসুদেবপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এরপর থেকেই কবর থেকে কঙ্কাল চুরির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন নিহতদের স্বজনরা। সেই উদ্বেগ থেকেই প্রতিদিন রাতভর কবর পাহারা দিচ্ছেন তারা।

নিহত রব্বেল মোল্লার বাবা ইসমাইল মোল্লা বলেন, একই পরিবারের চারজন হারিয়ে এখন নিঃস্ব, একদিকে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে হচ্ছে, অপরদিকে বেটাদের কবর পাহারা দেওয়া লাগছে রাত জেগে। আমি পরিবারের বড় হওয়ায় দায়িত্বটা আমার ওপরে বেশি, সবাইকে আমারই বোঝাতে হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি একটাই, যাতে আমাদের সন্তানদের কবরটা একটু বাধাই করে দেয়।

এলাকাবাসীর বাসিন্দা মামুন শেখ বলেন, আমরা কুসংস্কার হলেও একটা কথা শুনেছি যে, বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া মানুষের লাশ কবর থেকে চুরি হয়ে যায়। এজন্য আমরা এলাকাবাসীসহ নিহত পরিবারের সদস্যরা সারারাত কবরগুলো পাহারা দিচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, এই কবরগুলো দেখা করার জন্য একটা ব্যবস্থা করে দিক।

পলাশ হোসেন বলেন, মাঝে মাঝে খবর পাই বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ চুরি হয়ে যায়, আর এখানে তো একসাথে ছয়টা কবর। তাই আমাদের আতঙ্ক বেশি। কবরগুলো বেঁধে দিলে আমরা একটু দুশ্চিন্তামুক্ত হতাম।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, কবরস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনদের উদ্বেগের বিষয়টি জানার পর সেখানে পুলিশের বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর থানার বিট অফিসারকে কবরস্থানে নিয়মিত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!