কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নে পাকা রাস্তার উন্নয়ন কাজে নিম্ন মানের ইট ব্যবহার হচ্ছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাজে বাঁধা দেয় এলাকাবাসী। এতে ছুটে আসেন ইটভাটা মালিক কুষ্টিয়া-২(ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের জামায়াত মনোনিত সংসদ সদস্য(এমপি) আব্দুল গফুরের ভাই আব্দুল মান্নান। তিনি এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে বলেন.কুষ্টিয়া জেলা এখন গফুরের হাতের ভিতর।
ঘটনাটি আজ বুধবার সকাল ১০টায় অঞ্জনগাছী গ্রামে ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার ১৬ সেকেন্ডর একটি ভিডিও ক্লিপে এমপির ভাই আব্দুল মান্নানকে বলতে শোনা যায়,”সেই গরমের যুগ নাই। এখন মনে করবি-কুষ্টিয়া এখন গফুরের হাতের ভিতর। তিনি আবারো বলেন,কুষ্টিয়া জেলা এখন গফুরের হাতের মধ্যি। আমার ড্রাইভারকে মারতি যাবা আর আমি বসে তামুক খাবো।” তবে বক্তব্যর সত্যতা স্বীকার করলেও নিম্নমানের ইট তিনি সরবরাহ করেননি জানিয়ে স্থানীয় বিএনপির লোকজন চাঁদার দাবিতে কাজে বাঁধা দিচ্ছেন এমটাই দাবি করেন আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন,আপনারা এসে দেখে বিবেচনা করেন আমি কয় নম্বর ইট দিচ্ছি। ইটের গাড়ি কাজের সাইটে আসলে আমার ড্রাইভারের সঙ্গে হেলাল নামে স্থানীয় একজন খারাপ আচরণ শুরু করে। আব্দুল মান্নান আরও বলেন,যে ঠিকাদার কাজ করছেন তিনি নতুন। আমার সাথে ভালো সম্পর্ক। তাঁর একটি কাজ আমি কিনতেও চেয়েছিলাম। তবে আমি মানছি এমপিকে নিয়ে যে কথা বলেছি তা বলা আমার ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য(এমপি) আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মিরপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমলা ইউনিয়নের নিমতলা থেকে কালিতলা পর্যন্ত পৌণে চার কিলোমিটার পাঁকা রাস্তার মেরামত কাজ চলমান। ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় কাজ পায় কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চঞ্চল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী, রাস্তার কাজে ১ নম্বর ইট ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু স্থানীয় অনেকে বলছেন, কাজে ২-৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন,ঘটনার পর স্থানীয় একটি পক্ষকে পিকনিকের খরচ দেওয়ার চুক্তিতে ঠিকাদারসহ অন্যরা বিষয়টি সমঝোতা করেছেন।
জানতে চাইলে কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী ঠিকাদার সাবু বলেন, রাস্তার কাজে কোনো খারাপ ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, এখন মিলেমিশে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি।’ এলজিইডির মিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান বলেন,নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগটি সঠিক নয়। এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। এমপি সাহেবের ভাই ঠিকাদারকে ইট সরবারাহ করছে বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বাঁধা দিয়েছিল। পরে সেটা বসে ঠিক করে নিয়েছে।