কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত এসএসসিতে ৯৯.২৬ শতাংশ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ শিক্ষার্থী
এসএম জামাল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ২৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ১৯০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
ফল প্রকাশের পর কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করায় শিক্ষার্থীরা একে অপরকে অভিনন্দন জানায়। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন।
প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল শিক্ষা পরিবেশের সম্মিলিত ফল এই সাফল্য। দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের ধারাবাহিকতা এবারও ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯০ জিপিএ-৫, সাফল্যের বড় অর্জন
এবারের ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ২৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করেছে।শিক্ষকদের মতে, শুধু পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি নয়, বছরের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, বিষয়ভিত্তিক অনুশীলন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা নজরদারি এবং পরীক্ষার উপযোগী প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের প্রত্যাশাকুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অর্জন প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ফলাফল অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
শিক্ষকরা বলছেন, পরিশ্রমের ফল এই সাফল্য
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নাদিরা খানম বলেন, শিক্ষার্থীদের এই ফলাফল তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এবারও ভালো ফলাফল এসেছে।
সিনিয়র আরেক শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিবিড় যোগাযোগ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীর চোখে সাফল্য
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী অর্পিতা বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে। শিক্ষকরা শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনায় নয়, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।
সে জানায়, নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের নির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতার কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতেও ভালো ফলাফল ধরে রেখে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সে।
অভিভাবকদের আনন্দ
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, সন্তানের ভালো ফলাফল পেয়ে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং বিদ্যালয়ের সুন্দর শিক্ষা পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, সন্তানরা যেন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটিই অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেভাবে শিক্ষার্থীদের যত্ন নিয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যয়
কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ার শিক্ষা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায়ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছে।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ। ২৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬৯ জনের উত্তীর্ণ হওয়া এবং ১৯০ জনের জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সাফল্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।