ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার। নানা রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি, সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি’ নচিকেতা চক্রবর্তীর জীবন ধর্মী গানই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জের রাকুদিয়া গ্রামে তাহমিনা বেগমের।রাজধানীর উত্তরায় বড় ছেলের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। অন্য তিন সন্তানও পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। অথচ সন্তানদের সেই সুসময়ে গর্ভধারিণী মায়ের ঠাঁই হয়নি কোথাও। শেষ বয়সে একাকিত্ব আর অবহেলা সঙ্গী করে ভাইয়ের মাধ্যমে নেওয়া এক চিলতে ভাড়া বাসায় দিন কাটছিল তার। অবশেষে সেই বন্ধ ঘর থেকেই মোসা. তাহমিনা বেগম (৬৫) নামের ওই বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তাহমিনা বেগম উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ হাওলাদারের মেয়ে এবং মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাহমিনা বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে সুমন, ছোট ছেলে আওলাদ এবং দুই মেয়ে মুক্তা ও মনি। তারা সবাই পরিবার নিয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। বড় ছেলে সুমনের উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট থাকলেও মায়ের জায়গা হয়নি সেখানে। বাধ্য হয়ে ভাইয়ের সহযোগিতায় নতুনহাট এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন দীর্ঘদিনের অসুস্থ এই বৃদ্ধা।স্বজনরা জানান, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাহমিনা বেগমের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। এরপর থেকে তার ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। রোববার সকালে ওই ঘর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা স্বজনদের খবর দেন। পরে স্বজনরা এসে ঘরের দরজা খুলে খাটের ওপর তার পচাগলা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো একসময় তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’