• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাস-লেগুনার মু’খো’মু’খি ভ:য়া’ব’হ সং’ঘ’র্ষে প্রা”ণ গেল ২ জনের,আ’হ”ত ১৫  বাস-লেগুনার মু’খো’মু’খি ভ”য়া”ব:হ সং”ঘ”র্ষে প্রা’ণ গে’ল দুজন,আ”হ”ত ১৫  ছেলের আ”ঘা”তে মা’য়ের মৃ ত্যু কো’র’বা’নির মাংস ব”ণ্টন ও সংরক্ষণকে কে”ন্দ্র করে সং”ঘ”র্ষ, আ হ ত ৩০ ঈদের দিনে বাস ও মোটরসাইকেল সং’ঘ’র্ষে নি হ ত ৫ ব’ন্ধ ক্যা’ন্টিন, ভো’গা’ন্তি’তে যা’ত্রীরা ঈদের দিন শাহজালাল বিমানবন্দরে খাবার-পানি সং’ক’ট না”রী গ্ৰাহকদের অনৈতিক প্র”স্তা”ব, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে পি”টু”নি  রামপালে ঈদ উদযাপনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় সভা সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে কো’র’বা’নি হ’চ্ছে না ডোনাল্ড ট্রাম্প  এক্সক্যাভেটরে আ”গু”ন,বালু ব্যবসায়ী গ্রে’প্তা’র 

চুলকানি ইনজেকশনে ফুলে গেছে শি”শুদের মুখমন্ডল, জ্বা’লা য ন্ত্রণায় কাঁ’দছে শি’শুরা

notuntimes / ২৪৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

তিন মাসের প্রশিক্ষণে ডাক্তার, ভুল চিকিৎসায় কুষ্টিয়ার ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন ছেলেদের মত লোম গজিয়েছে মেয়ের মুখে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিশুদের কারো মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাচ্ছে। আবার কারো মুখে গজাচ্ছে লোম। শরীরের জ্বালা যন্ত্রণার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ক্ষত। তারা ভুগছে হরমোনজনিত রোগেও। এমন পরিস্থিতিতে ওই চিকিৎসকের শাস্তির চেয়ে রোববার ( ৮মার্চ) দুপুরে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন অন্তত ৭ অভিভাবক।

অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসকের নাম হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (২৮। তিনি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের দাড়িগ্রাম এলাকার রশিদ শেখের ছেলে। তার বেলগাছি গগণ হরকরা মোড়ে বেলগাছী মেডিকেল হল নামে একটি চেম্বার রয়েছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ঙ্ থেকে মাত্র তিনমাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বুনে গেছেন চিকিসক। খুলে বসেছেন ব্যক্তিগত চেম্বার। নামের আগে লিখেন ডাক্তার পদবি। ব্যবহার করছেন সিল ও প্যাড। সেখানে তিনি চিকিৎসক পরিচয়ে ২০২৩ সাল থেকে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে লিখিত অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামের কৃষক আশরাফুলের মেয়ে তাসলিমা খাতুন। দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঘরের বারান্দায় তিন শিশু সুমািয়া (৬), রাফাত ( ৩) ও তাইবা ( ৬ মাস) দের নিয়ে বসে আছেন তাদের মা তাসলিমা খাতুন। শিশুদের মুখমন্ডল ফোলা, জন্মেছে লোম। জ্বালা যন্ত্রণায় কাঁদছে সবার ছোট তাইবা। আর মায়ের চোখেমুখে হতাশার ছাপ।

এসময় তাসলিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তিনমাস আগে সন্তানদের শরীরে চুলকানি রোগ দেখা দেয়। তখন বেলগাছি এলাকার ডাক্তার ইব্রাহিমের কাছে গিয়েছিলাম। ইব্রাহিম ‘আলফাকর্ট’ নামের একটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েরা কাঁদতে শুরু করে। এরপর আস্তে আস্তে ওদের মুখ অস্বাভাবিকভাবেবে ফুলে যায়, ইনজেকশনের স্থানে ক্ষত তৈরি হয়। সম্প্রতি মুখে লোম গজাচ্ছে। পরে কুষ্টিয়ার এক ভালো ডাক্তারের কাছে গেলে চিকিৎসক বলেন ভুল চিকিৎসায় এমন হয়েছে।’

তাসলিমা বলেন, ‘বড় ডাক্তার বলেছেন ভুল চিকিৎসার কারনে শিশুদের হরমোনজনিত রোগ হয়েছে। ভালো হতে সময় লাগবে। আমি ভুয়া ডাক্তার ইব্রাহিমের বিচার চাই।’

একই এলাকার জাহিদ হোসেনের স্ত্রী মৌ খাতুন বলেন, ‘ ৬মাস আগে মেয়ে মরিয়ম (৭) ও ছেলে ইউসুফের (২) শরীরে চুলকানি দেখা যায়। সেজন্য ইব্রাহিম ডাক্তারের কাছে গিছিলাম। ডাক্তার ‘ আলফাকর্ট ‘ ইনজেকশন দিলে ছেলে – মেয়ে দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে মেয়ের মুখে ছেলেদের মত লোম গজিয়েছে। শরীরে জ্বালাপোড়া করে। কুষ্টিয়ার এক চিকিৎসক দেখানো হচ্ছে। চিকিৎসক বলেছেন হরমোনজনিত সমস্যা। সেরে উঠতে সময় লাগবে।’

তার ভাষ্য, ডাক্তার সেজে ইব্রাহিম ভুল চিকিৎসা করছে। এতে অনেক শিশুর জীবন এখন হুমকিতে পড়েছে। সঠিক বিচারের আশায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

শিলাইদহ ইউনিয়নের দাড়িগ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘ নামের আগে চিকিৎসক লিখে ইব্রাহিম ভুলভাল চিকিৎসা দিচ্ছে। এই ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসায় আমার ১৩ মাস বয়সি মেয়ে খাদিজার জীবন বিপন্ন। হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছে। বর্তমানে মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা দিচ্ছি। ভুয়া ডাক্তার ইব্রাহিমের কঠিন বিচার চাই।’

এ দিকে ঘটনার ভুল স্বীকার করে পল্লী চিকিৎসক হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলুল­াহ বলেন, ‘ মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাশ করে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রী সম্পন্ন করেছি। ২০২৩ সালে কুমারখালী হাসপাতাল থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছি। আগে না বুঝে সিল-প্যাড ও ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতাম।’ তাঁর ভাষ্য, তিনি নিয়ম মেনে চুলকানী রোগীদের আলফাকর্ট ইনজেকশন দিয়েছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ঙ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিকিৎসক খালেদ সাইফুল বলেন, একজন পল­ী চিকিৎসব সিল, প্যাডসহ নাম ব্যবহার করতে পারেন না। আবার এধরনের চিকিৎসাও দিতে পারেন না। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার ( মেডিসিন) চিকিৎসক আব্দুল­াহ আল মামুন বলেন, আলফাকর্ট এক ধরনের স্টোরায়েড ওষুধ। এটা ব্যবহার করলে দ্রুত ঠান্ডা, কাঁশি, জ্বর, চুলকানী খুব দ্রুত কমে যায়, তাৎক্ষণিকভাবে উন্নতি হয়। তবে এটার দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুলকানি দাঁধ এসবের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। এটা বয়স অনুযায়ী ডোজ দিতে হয়। তবে পল­ী চিকিৎসক বা প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে এটা দেওয়া যায়না। শুধু আরএমপি করে এধরনের চিকিৎসা দেওয়া যায়না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, ভুল চিকিৎসায় অন্তত ১০ শিশুর শরীরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!