দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এসির তামার তার ও যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একের পর এক চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার অফিসের কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্টরা দপ্তর ত্যাগ করেন। বুধবার সকালে অফিসে এসে এসি চালু করতে গেলে দেখা যায়, বাইরে থাকা এসির তামার তারগুলো কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগেও আদালতের এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। একটি বিচার বিভাগে বারবার চুরির ঘটনায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আদালতের পেশকার মাসুদ রানা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে অফিসে এসে এসি চালাতে গিয়ে দেখি বাইরে থাকা এসির সব তামার তার চুরি হয়ে গেছে। এর আগেও এসির যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি বিচার বিভাগীয় দপ্তরের ভেতরে বারবার এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত কৃষি অফিসেও সম্প্রতি পরপর দুটি সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে অফিসের একটি সিসি ক্যামেরা চুরি হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কিন্তু নতুন ক্যামেরাটিও প্রায় এক সপ্তাহ আগে চুরি হয়ে যায়। ফলে অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও এর আগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কক্ষের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিষদ চত্বরে থাকা পরিত্যক্ত ভবনগুলোর জানালা, দরজা ও লোহার গ্রিলও চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরিষদ চত্বরে অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলোও এখন অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বারের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন বলেন, আদালতে এ নিয়ে দুইবার এসির যন্ত্রাংশ ও তার চুরি হয়েছে। একটি বিচার বিভাগীয় দপ্তরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে বেশ কিছুদিন ধরেই চুরির ঘটনা ঘটছে। এর আগে চুরির ঘটনাগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। থানায় মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
নিজাম উদ্দিন বলেন, পরিষদ চত্বরে আনসার ও চৌকিদাররা দায়িত্ব পালন করার পরও যদি বারবার চুরি হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তিনি এসব ঘটনায় দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা পরিষদের ভেতরে একের পর এক চুরির ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে সর্বশেষ চুরির ঘটনা এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে ধারাবাহিক চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সাংবাদিকদের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনওর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় তার সাড়া পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলেও ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এসির তামার তার চুরির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
তিনি বলেন, চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ওসি আরও বলেন, এর আগেও আদালতের এসির যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছিল এবং সে ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার ভেতরে বারবার চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, শুধু চুরির ঘটনার পর তদন্ত করলেই হবে না; উপজেলা পরিষদ চত্বরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে।একই সঙ্গে পরিত্যক্ত ভবন, বিভিন্ন দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার এবং ধারাবাহিক চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।