পাবনার আকাশে চাঁদ-শুক্রের অপূর্ব মেলবন্ধন
পাবনার রাতের আকাশে দেখা মিলেছে চাঁদ ও শুক্র গ্রহের অপূর্ব এক মহাজাগতিক মেলবন্ধন। মেঘমুক্ত আকাশে সরু বাঁকা চাঁদের পাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল শুক্র গ্রহের অবস্থান তৈরি করে এক নান্দনিক দৃশ্য।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য উপভোগ করেন এবং মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন।
পাবনা শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার আকাশে সন্ধ্যার পরই দৃশ্যটি নজর কাড়ে।অন্ধকার আকাশে এক পাশে কাস্তের মতো চাঁদ, আর তার কাছেই উজ্জ্বল বিন্দুর মতো জ্বলতে থাকা শুক্র সদৃশ্যটি অনেকের কাছেই ছিল মুগ্ধকর। কেউ বাড়ির ছাদে, কেউ খোলা মাঠে কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করেন মহাকাশের এই সৌন্দর্য।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে চাঁদ ও শুক্রের যুগলবন্দির ছবি। স্থানীয়দের পোস্ট করা ছবিতে ফুটে ওঠে পাবনার রাতের আকাশের অনন্য সৌন্দর্য।ব্যস্ত নাগরিক জীবনের বাইরে এমন একটি প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক দৃশ্য মুহূর্তের জন্য হলেও মানুষকে থামিয়ে দেয়, তৈরি করে কৌতূহল ও আনন্দ।
পাবনা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল রাশেদ রনি বলেন, ‘আকাশের এমন অপরূপ দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। চাঁদের পাশে এত উজ্জ্বল শুক্রকে দেখে আমিও মুগ্ধ হয়েছি। তাই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি না করে থাকতে পারিনি।মহাজাগতিক এ দৃশ্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সেন্টার ফর স্পেস সায়েন্স, অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের রিসার্চ ইন্টার্ন সোহানুর রহমান জানান, আকাশে পৃথিবী থেকে দেখার দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদ ও শুক্র যখন পরস্পরের খুব কাছাকাছি অবস্থানে আসে, তখন সেটিকে সাধারণভাবে চাঁদ-শুক্রের সংযোগ বলা হয়।
তবে এবারের ঘটনাটি শুধু কাছাকাছি অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে চাঁদের আড়ালে শুক্রকে চলে যেতে দেখা গেছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শুক্রের এমন চন্দ্র-অকালটেশন মোট তিনটি হওয়ার কথা, ১৭ জুনের পর ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল দ্বিতীয়টি, আর তৃতীয়টি হওয়ার কথা ৭ নভেম্বর। ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও পশ্চিম রাশিয়ার কিছু অঞ্চল থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছিল।