মন্ডল বাতাসী পার্কে দর্শনার্থীদের গোপনে ভিডিও ধারণ ও অশ্লীল প্রচারের অভিযোগ
তিতাস আহম্মেদ
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন উজানগ্রাম ইউনিয়নের উজানগ্রাম বিল কাতার নামক এলাকায় অবস্থিত ‘মন্ডল বাতাসী পার্ক’ নামের বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থী নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে টিকটকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একটি কুচক্রী মহলের এমন কার্যকলাপে পার্কটির পারিবারিক সদস্য নিয়ে ঘুরতে আসা পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের সূত্রে জানা যায়, উজানগ্রাম ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার মানুষের বিনোদনের একমাত্র ভরসা এই ‘মন্ডল বাতাসী পার্ক’। পার্কের পাশেই বিশাল বিল থাকায় প্রাকৃতিকভাবে এখানে সবসময় ঠান্ডা বাতাস ও সুন্দর আবহাওয়া বিরাজ করে এজন্য এর নামকরণ করা হয় মন্ডল বাতাসী পার্ক।মন্ডল গোষ্ঠীর পারিবারিক
উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে বলে জানা যায়।বিশেষ করে ঈদ, বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবে এখানে গ্রাম্য মেলার আয়োজন করা হয় এবং দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
তবে সম্প্রতি পার্কটির পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ‘বাতাসী পার্ক’ নামের একটি টিকটক আইডি থেকে নিয়মিত পার্কে ঘুরতে আসা নারীদের গোপন ভিডিও ধারণ করে তাতে অশ্লীল গান ও আপত্তিকর ক্যাপশন যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
এমন অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেক দর্শনার্থীরা, ক্ষোভ প্রকাশ করে সুমন মুন্সি নামে এক ভুক্তভোগী জানান সম্প্রতি তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ওই পার্কে ঘুরতে যান। পার্কের ভেতরে হাঁস আকৃতির নৌকায় ওঠার সময় কে বা কাহারা গোপনে জুম করে ভিডিও ধারণ করা হয়।পরবর্তীতে ‘বাতাসী পার্ক’ নামক একটি টিকটক আইডি থেকে সেই ভিডিওতে অশ্লীল গান ও মন্তব্য জুড়ে দিয়ে তা পোস্ট করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও মানহানিকর উল্লেখ করে তিনি জানান, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে তার পরিবার ওই পার্কে আর যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।অন্য এক ভুক্তভোগী জানান,আমি ও আমার স্ত্রী টেবিলে বলে ফুসকা খাচ্ছিলাম তখন কে বা কাহারা জুম করে ভিডিও করে, তিনি আরও জানান, আমার বৌ পদ্দা করে ঘুরতে এসে এমন অপ্রিতিকরণ ঘটনা ঘটবে আশা করি নি, ভিডিও তে একটি অশ্লীল গান লাগিয়ে আপলোড করা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, কিছু উঠতি বয়সী বখাটে যুবক পার্কের বিভিন্ন কোণ থেকে জুম করে দর্শনার্থীদের ভিডিও ধারণ করছে। পার্কের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্ক কর্তৃপক্ষের দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।
এ বিষয়ে পার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও দায়িত্বে থাকা জাবেদ মন্ডলের সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি জানান, স্থানীয় এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে যুক্ত। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও সময়ের স্বল্পতার কারণে তাদের পক্ষে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই তিনি গোষ্ঠীগত উদ্যোগে এই পার্কটি তৈরি করেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই এই পার্কের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বেও পার্কের নির্মাণাধীন বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। আগত দর্শনার্থীদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে ‘বাতাসী পার্ক’ নামে টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলে তা অপপ্রচার করছে— বিষয়টি আমারও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এদিকে, সাধারণ দর্শনার্থী ও নারীদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধে জড়িত এই চক্রটিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ও ভুক্তভোগী পরিবার গুলো।