টেলিগ্রামে চাকরির লিঙ্ক, ঢোকার পর ৯৪ লাখ টা’কা আ’ত্ম’সা’তের অভিযোগ
চাকরির প্রস্তাব এসেছিল টেলিগ্রামে। আগ্রহ দেখাতেই দেওয়া হয় একটি লিঙ্ক। দেখতে সেটি ছিল পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মতো। সেই লিঙ্কে যুক্ত হওয়ার পর নানা কৌশলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
পল্টন থানায় করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এভাবে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।এই মামলায় গ্রেফতার প্রতারক চক্রের দুই সদস্য জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড়কে (২৮) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে দুজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।এরআগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ আগস্ট টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে মেহেদী হক লিয়নের কাছে ‘জেলেস জুয়েলারি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব আসে। চাকরির প্রস্তাবে আগ্রহী হয়ে মেহেদী ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সম্পর্কে খোঁজ নেন। এরপর কথিত চাকরিদাতারা তাকে একটি লিঙ্ক দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেটি ছিল একটি ফিশিং লিঙ্ক, যার মাধ্যমে তাকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়।এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে দাবি বাদীর।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী মেহেদী হক লিয়ন (৪৯) চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ কথিত প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে শনাক্ত করে। পরে কিশোরগঞ্জ সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুলহাস উদ্দিন ও প্রহড়কে গ্রেফতার করা হয়।