পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে আবারও চার জেলার পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
নতুন টাইমস ডেস্ক:::
পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন, অবৈধ দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আবারও যৌথ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে চার জেলার পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোররাত থেকে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মার চরাঞ্চলে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের প্রায় ২০০ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতীরবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চরের নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কৃষিজমির ফসল লুটপাট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় প্রায়ই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন এবং ভেড়ামারা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসেও এসব চরাঞ্চলে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সে সময় বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আবারও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার ভোররাত থেকে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। চরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তল্লাশি চলছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চলার কথা রয়েছে।