• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আট শ’র্তে শ’হী’দ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব’রা’দ্দ দিল প্রশাসন, জিলা স্কুল মাঠেই অনড় জামায়াত  হাসপাতালে ঢু’কে স্বে’চ্ছা’সেব’ক দ’ল নে’তা’কে পে’টা’লে’ন ছা’ত্র’দ’ল নে’তা কো’টিপ’তি ছেলের ফ্ল্যাটে জা’য়’গা হ’য়’নি বৃ’দ্ধ মা’য়ে’র, মি’লল প”চ”ন ধ’রা ম”র’দে’হ স্বা’মী’র এক থা’প্প’ড়ে প্রা’ণ গে’ল গৃ’হ’ব’ধূ’র গাংনীতে মোটরের সু’ইচ দি’তে গিয়ে বি’দ্যুৎস্পৃ’ষ্টে না’রী’র মৃ”ত্যু আমার মৃ”ত্যু”র জন্য ইউএনও দা”য়ী’ লি’খে ফেসবুকে পো’স্ট, প্র’ত্যা’হা’র এসিল্যান্ড স্বামীর ভাড়া বা’সা থেকে কুবি শি’ক্ষা’র্থীর ঝু’ল”ন্ত ম”র”দে”হ উ”দ্ধা’র মিরপুরে কাভার্ড ভ্যান-অটো রিক্সার সং’ঘ’র্ষে একজন নি’হ’ত খুলনায় ক্লি’নি’কে গু’লি’ব’র্ষ’ণ, ভা’ঙ’চু’র ইউপি নি’র্বা’চ’নে বিএনপির প্রা’র্থী’কে প’রি’চয় করিয়ে দিলেন এমপি, ইউএনওর হাততালির ভিডিও ভা’ই’রা’ল

আট শ’র্তে শ’হী’দ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব’রা’দ্দ দিল প্রশাসন, জিলা স্কুল মাঠেই অনড় জামায়াত 

notuntimes / ১৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাজনৈতিক সমাবেশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর

কুষ্টিয়ায় ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের স্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ করার পূর্বঘোষণা বহাল রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, স্কুল মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আটটি শর্তে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে স্টেডিয়াম বরাদ্দের পরও জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের ঘোষণা বহাল রাখায় কর্মসূচির স্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্রে বলা হয়েছে, সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন বক্তব্য পরিহার, উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করা এবং মাঠ পরিষ্কার রাখাসহ আটটি শর্ত মানতে হবে। সহকারী কমিশনার (জুডিসিয়াল মুন্সিখানা) মো. জাকিউল আলম স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রে এসব শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন শতাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন ও গণস্বাক্ষর জমা দেন। তাঁদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করা যাবে না। ভবিষ্যতেও মাঠটি সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখতে হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মজিবর রহমান বলেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেননি। জিলা স্কুলের মাঠ বা প্রাঙ্গণে আগে কখনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়নি। এই ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল যাতে সেখানে এ ধরনের আয়োজন না করে, সে দাবিতেই তাঁরা কর্মসূচি পালন করেছেন।

এদিকে সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, জেলার তিনটি আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য এবং দলটির অন্য নেতারা।

সাক্ষাৎ শেষে মোবারক হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৩১ অক্টোবর সেখানে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ হবে বলে তাঁরা প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে এর পর জেলা প্রশাসনের লিখিত সিদ্ধান্তে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠেই সমাপনী সমাবেশ করার বিষয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট। স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার পর বিকল্প হিসেবে জিলা স্কুল মাঠের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে তাঁরা প্রস্তুতি শুরু করেন। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও হ্যান্ডবিলসহ প্রচার-প্রচারণার কাজও প্রায় শেষ করেছেন।

এনামুল হক আরও বলেন, কর্মসূচির পাঁচ দিন আগে আবার স্টেডিয়াম মাঠের প্রসঙ্গ তোলায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জিলা স্কুল মাঠেই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পরে ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাকিউল আলম আবেদনটি পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়ে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মতামত চান। এ ছাড়া গত ১৮ অক্টোবর জামায়াতের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠ বরাদ্দ চেয়েও আবেদন করা হয়।

সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানিয়েছিলেন, স্টেডিয়াম মাঠ বরাদ্দের আবেদন পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, জিলা স্কুল মাঠ ছোট এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তখন পর্যন্ত কোনো মাঠ ব্যবহারের অনুমতি মৌখিক বা লিখিতভাবে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

পরে সোমবার সন্ধ্যায় আটটি শর্তে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে প্রশাসনের লিখিত অনুমতি এবং জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ করার বিষয়ে জামায়াতের পূর্বঘোষিত অবস্থানের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন পরিস্থিতি। এখন সমাপনী সমাবেশ শেষ পর্যন্ত কোন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১১-দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় লংমার্চ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কুষ্টিয়ায় লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!