• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দেড় লা’খ টা’কা দিয়েও চেয়ারম্যান হতে পারেননি, ফাঁ’স করলেন সচিবসহ ছয়জনের নাম অ’নৈ”তি”ক ক”র্ম”কা’ণ্ডে’র ভি’ডি’ও ভা”ই’রা’ল অ’ব্যা’হ’তি পাওয়া জামায়াত নে’তা’র বাড়ি গুঁ”ড়ি”য়ে দিলেন এ’লা’কা’বা’সী এইচএসসি পা’স করলো জেলা ছা’ত্র’দ’ল স’ভা’প’তির ছেলে, স’মা’লো’চনা’র মুখে ক’মি’টি বি’লু’প্ত দৌলতপুরে চাঁ”দা না দেওয়ায় হিন্দু ব্য’ক্তির ম”র’দেহ সৎকারে বা”ধা’র অ’ভি”যো”গ কুষ্টিয়ার মিরপুরে অ’বৈ’ধভা’বে তরল সার প্যা’কে’টজা’ত করার দায়ে জ’রি’মা’না। মিয়ানমারে পা’চা’রে’র সময় ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার উ”দ্ধা”র, গ্রে”প্তা”র ৮ এইচএসসিতে যশোর বোর্ডের ১৬ প্রতিষ্ঠানে পা’শ করেনি কেউ নাটোরের গুরুদাসপুর: বাবা এমপি, ছেলেরা বে’প”রো’য়া দৌলতপুরে চেয়ারম্যান প্রা’র্থী ইকবাল হোসেনের বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সং’ঘ’র্ষে আ”হ”ত ৩০: পুলিশের গাড়িসহ ১৫টি যানবাহন ভা’ঙ’চু’র

দেড় লা’খ টা’কা দিয়েও চেয়ারম্যান হতে পারেননি, ফাঁ’স করলেন সচিবসহ ছয়জনের নাম

notuntimes / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের শূন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, টাকা দিয়েও তিন মাসে চেয়ারম্যান হতে না পেরে টাকা ফেরত চান ওই নারী সদস্য। এ নিয়ে সালিসি বৈঠকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন বই চুরির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে সচিবের বিরুদ্ধে।গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে এ ঘটনায় এক গ্রাম পুলিশকে হাতেনাতে ধরার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।অভিযোগকারী হোসনেয়ারা কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং প্যানেল চেয়ারম্যান। স্থানীয় বিএনপি নেতা, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিসি বৈঠকে তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যান বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সচিবসহ ছয়জন তার কাছ থেকে মোট দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন।

হোসনেয়ারার অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোকছেদুল ইসলাম নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা, সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুদ ৫০ হাজার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোরসালিন ২০ হাজার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলিম ১০ হাজার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জলিল ১০ হাজার এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

হোসনেয়ারা বলেন, এখন পদও নাই, টাকাও নাই। এ অবস্থায় বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোনও সুরাহা হচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালিসি বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাতের আঁধারে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন বই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সচিব মোকছেদুল ইসলাম। এ কাজে গ্রাম পুলিশকে ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মানিক বলেন, সচিব তাকে চাবি দিয়ে রেজুলেশন বই নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে যেতে বলেন।

এদিকে, ওই রাতেই গোপনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যান করার বিষয়ে রেজুলেশন তৈরি করে রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জালাল উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই আমি চেয়ারম্যান হচ্ছি। তার দাবি, এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আলালের বিরুদ্ধে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা নিজের কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারার বিরুদ্ধেও ইউপি সচিবসহ বিভিন্নজনকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগ রয়েছে।

ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সচিব মোকছেদুল ইসলাম কামারপুকুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার ছেলের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে একসময় জেলার কিশোরগঞ্জে বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি আবার নিজ ইউনিয়নে কর্মরত হন বলে দাবি করেন আমিনুল। এ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো টাকা নিইনি। হোসনেয়ারা আমার টেবিলের ড্রয়ারে পাঁচ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিলেন। তা আমি একটি কাজে খরচ করে ফেলেছি। দ্রুতই তা ফেরত দিয়ে দেব। আর অন্য কেউ টাকা নিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, চৌকিদার আমার নাম কেন বলেছে? আমি কি তাকে আসতে বলেছি? আমি এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। ইউনিয়ন পরিষদের কোনো বিষয়েই আমার মাথাব্যথা নেই। কোনও ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তিনি কোনোভাবেই এমন কাজে জড়িত হতে পারেন না। তাই প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!