কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে সমাবেশে আপত্তিকর ও অসম্মানজনক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুষ্টিয়া-২(ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য(এমপি) অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। তিনি বিএনপির-জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। রোববার বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম,পৌর বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ,সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ডাবলু,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম,চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জানবার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যটি পরিকল্পিত ছিল মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ওর মতো(টিপু সুলতান) নেতা কি বললো। তাতে বিএনপির উপর কোন প্রভাব পড়বে না। বক্তব্যে একই আসনের বিএনপি মনোনিত পরাজিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী,সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফরিদা ইয়াসমিনের নাম উল্লেখ করে শহীদুল ইসলাম বলেন,আমরা যদি কোন গ্রুপিং করি তাহলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। আমি বিশ^াস করি রাগীব রউফ চৌধুরী এমন কিছু করবেন না যেটা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। উনি বুঝেছেন। কি কারণে উনার পরাজয় হয়েছে। যদিও গতকাল জনসমাবেশে তিনি উপস্থিত ছিলেন। উনি কেন টিপু সুলতানকে আপত্তিকর বক্তব্য থেকে বিরত রাখেননি। সেটা আমি জানি না।
এ সময় ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে শহীদুল ইসলাম বলেন,এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। সামনের দিনে দলের মনোনয়ন চাইলে,নির্বাচন করতে চাইলে এই নেতাকর্মীদের লাগবে। জেনেশুনে কেও নিজের পায়ে কোড়াল মারবে না। তিনি বলেন,গ্রুপিং করলে কি হয়? যখন আমি উপজেলা বিএনপিকে সংগঠিত করছি সেই মুহুর্তে উনি গ্রুপিং-এ ব্যস্ত ছিলেন। আমি তাকে বলেছিলাম,বাবা তুমি গ্রুপিং করে জিততে পারবে না।
শহীদুল ইসলাম বলেন,মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড,পৌরসভা ও ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাই নির্বাচনের চালিকাশক্তি হবে। এদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করলে এই তরী পার হওয়া যাবেনা। এবার ধানের শীষের জোয়ার ছিল। সেটা এই টিপু সুলতানরা আগামী দিনের কথা মাথায় রেখেই চক্রান্ত করে এই নির্বাচনে পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহিৃত হয়েছে। বিএনপি নেতা টিপ সুলতান হত্যা মামলার আসামী মন্তব্য করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন,টিপু সুলতান ষড়ডন্ত্র ছাড়া কিছু বোঝে না। আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির কুষ্টিয়ার যে সমস্ত চিহিৃত লোকজন দেশে ও দেশের বাইরে আছে তাদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আমার সহকর্মী ও প্রিয় বন্ধু মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আল মামুন আর রসুল ওরফে বাবু খানকে হত্যার প্রধান আসামী ছিল এই টিপু সুলতান।
নিজের নিরাপত্তার কথা জানিয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন,আমি নিজেও আতঙ্কগ্রস্ত। মিরপুরে যেতে হলে আমাকে সাবধানেই যেতে হবে। কারণ হেন অপকর্ম নেই যা টিপু সুলতান করতে পারেননা। এর আগে শনিবার বিকেলে মিরপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির-জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া-২ আসনের বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। সভায় মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বক্তব্যে জাতীয় নির্বাচনে রাগীব রউফ চৌধুরীর পরাজিত হওয়ার কারণ হিসেবে শহীদুল ইসলামের ষড়যন্ত্রকে দায়ি করেন। বিএনপি নেতা টিপু সুলতান অভিযোগ তুলে বক্তব্যে বলেন, জামায়াত নেতার ছোট ভাই ইটভাটার মালিক বস্তায় করে দেড়কোটি টাকা শহীদুল ইসলামের বাড়িতে দিয়ে এসেছে। এই হলো ভোট। উনার(শহীদুল ইসলাম) ভাতিজা ভেড়ামারাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুই হাজার টাকা দিয়ে ভোট কিনেছে। তাঁর প্রমাণ আছে। এবার সন্ধি হলো ভেড়ামারা উপজেলা দিবেন ভাই আলম মালিথাকে,পৌরসভা দিবেন ডাবলুকে আর মিরপুর দিবেন জামায়াতকে। তিনি বলি দিতে যাচ্ছেন বিএনপিকে। টিপু সুলতান বলেন,যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তারাই চিটার। তারাই ভালোবাসা নিয়ে ভোটগুলো বিক্রি করছে। এর পরেও আপনারা বলেন শহীদুল ইসলাম নেতা।
এ সময় পুরো বক্তব্য জুড়ে শহীদুল ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানীকর কথা বলেন টিপু সুলতান।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন,শনিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এক নেতার বিপক্ষে বক্তব্য প্রদান করায় আরেক নেতা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।