রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
রোববার (৩১ মে) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, কেন্দ্রটির রুশ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাদের অবহিত করেছে শনিবার একটি ড্রোন টারবাইন ভবনে আঘাত হেনেছে। এতে ভবনের দেয়ালে একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটম দাবি করেছে, এটি ছিল ইউক্রেনের ইচ্ছাকৃত হামলা। তবে এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ। ২০২২ সালে রুশ বাহিনী কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ করে আসছে।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ‘পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বা এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা হওয়া উচিত নয়। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করা আগুন নিয়ে খেলার শামিল।’
রোসাটমের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সেই লিকাচেভ রুশ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি ঘটনার আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, যার প্রভাব শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেন নয়, আরও দূরের দেশগুলোকেও স্পর্শ করতে পারে।’
তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘ইউক্রেন কেন নিজের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং নিজ নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এমন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে, তা বোধগম্য নয়।’
রোসআটমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় যন্ত্রকক্ষের দেয়ালে গর্ত সৃষ্টি হলেও কেন্দ্রের মূল বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলেও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ তোলে, যাতে একজন পরিবহনকর্মী নিহত হয়।