চুয়াডাঙ্গায় ১৮৪টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের ১৩৬টিরই নেই লাইসেন্স নবায়ন
স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে চুয়াডাঙ্গায় লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে বহু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি এসব প্রতিষ্ঠান। ফলে ভুল চিকিৎসা ও ভুল রিপোর্টের শিকার হয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় অনলাইনে নিবন্ধিত মোট ১৮৪টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৬টির প্রায় তিন বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। নবায়নহীন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদরে ৫৬টি, আলমডাঙ্গায় ৩১টি, দামুড়হুদায় ২১টি ও জীবননগরে ২৮টি রয়েছে।মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকা, চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন আটকে আছে। এর মধ্যে নতুন লাইসেন্সের জন্য আরও চারটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ১৬২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে ৩৭টিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, ছয়টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন এবং ১১৯টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ছাড়পত্র পাওয়ার অযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে অথবা চিকিৎসা-বর্জ্য শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই।চুয়াডাঙ্গা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘উদ্যোক্তারা সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় অনেক আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০০৮-এর শর্তও অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে পালন করছে না।’
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে অনলাইন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিক ৬৪টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১২০টি। পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। সময় পার হওয়ায় আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগরে অভিযান চলছে। নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজ ও চিকিৎসকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সিভিল সার্জন বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্য নয় এমন প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কীভাবে চালু থাকে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও ভুল রিপোর্ট ও চিকিৎসার কারণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, দায়িত্বশীল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।