জিয়ারখী ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নতুন প্রত্যয়ের কথা জানালেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সোহেল সামাদ রিপন
সুমন শেখ, জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৬নং জিয়ারখী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সোহেল সামাদ রিপনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।
জিয়ারখী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন মোঃ সোহেল সামাদ রিপন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করা।
তিনি মনে করেন, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সাধারণ মানুষ। তাই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তিনি।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব
জিয়ারখী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সোহেল সামাদ রিপন।
তাঁর মতে, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়
বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজই একটি এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছেন তিনি।
মোঃ সোহেল সামাদ রিপনের প্রত্যাশা, তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো গেলে তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার
জিয়ারখী ইউনিয়নের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সোহেল সামাদ রিপন।
পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সরকারি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সুযোগ যথাযথভাবে পাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের প্রত্যাশা
একটি কার্যকর ইউনিয়ন পরিষদের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন মোঃ সোহেল সামাদ রিপন।
তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে পারলে স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করা হলে তার সুফল প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও পাবেন।
সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ওপর গুরুত্ব
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভেদ বা বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, ৬নং জিয়ারখী ইউনিয়নের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি জনগণের কথা শুনবেন, এলাকার সমস্যা বুঝবেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। উন্নয়ন, জনসেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সামনে রেখে মোঃ সোহেল সামাদ রিপনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা তাই স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
সবশেষে মোঃ সোহেল সামাদ রিপন ৬নং জিয়ারখী ইউনিয়ন পরিষদ, সদর উপজেলা, কুষ্টিয়াকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। তাঁর লক্ষ্য—দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা।