• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ব’জ্র’পা’তে বাবার মৃ ত্যু,কোল থেকে ছি’টকে পড়ে প্রা’ণে বাঁ’চল মেয়ে  পাটিকাবাড়ীতে শিক্ষার্থীর আ’ত্ম’হ ত্যা: প্রেমের স’ম্পর্ক নিয়ে বি’রো’ধ, পরিবারের অ’ভি’যো’গ প্ররোচনার দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, আ’লী’গের বোঝা বিএনপির কাঁধে  কুষ্টিয়ায় অ’স্ত্রোপচারের সময় শি”শু’র মৃ ত্যু দুই চিকিৎসক পুলিশ হে’ফা’জ’তে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেশ পার্সেল খুলতেই বো”মা বি”স্ফো”র”ণ, ভ্যানচালক আ”হ”ত বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং বাগেরহাটের রামপালে সদর ইউনিয়নে বিএনপির স’ভা  হাইকোর্টে এমপি আমির হামজার আগাম জামিনের আবেদন  দৌলতপুরে থানার ওসির বি’রু’দ্ধে নানা অ’ভি’যো’গ

দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, আ’লী’গের বোঝা বিএনপির কাঁধে 

notuntimes / ৬৭ Time View
Update : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

এশিয়া-ইউরোপের অনেক দেশের চেয়ে নির্মাণ ব্যয় অত্যধিক এই প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি তদন্ত করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব : টিআইবি * খরচের কাগজপত্র ঠিকমতো দিচ্ছে না রোসাটম * হাসিনা পরিবারের দুর্নীতির তদন্ত করছে দুদক।

অনেক হইচই করেই মঙ্গলবার উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। কিন্তু এই প্রকল্প নিয়েই চিন্তায় অস্থির বিদ্যুৎ বিভাগ। কারণ, প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায়ও রূপপুরের নির্মাণ ব্যয় অনেক। তাই এত ব্যয়বহুল প্রকল্প পুরো জাতির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে আছে। বালিশকাণ্ড থেকে শুরু করে এমন কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই যা এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ওঠেনি। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকার আমলে রূপপুর প্রকল্প থেকে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্য যুক্তরাজ্যে বসবাসরত টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও আনা হয়। সেই অভিযোগ এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক তদন্ত করছে। অভিযোগ আছে, রূপপুর কেন্দ্রের ঠিকাদার রোসাটম শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারকে ওই টাকা দিয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত করেছে। অথচ অন্যান্য দেশে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয় না। এখন পুরো জাতির কাছে এই প্রকল্প ব্যয় একটি বড় ধরনের বোঝা। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই বোঝা এখন এসে পড়েছে বিএনপির সরকারের কাঁধে।

রূপপুর কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি। ওই সংস্থার একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রূপপুর কেন্দ্রে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ আছে। প্রকল্প ব্যয় নির্মাণের কাগজপত্র সহজে রোসাটম দেখাচ্ছে না; যা বেশ সন্দেহজনক। পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেছেন, কত দামে রূপপুরের বিদ্যুৎ কেনা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

রূপুপর প্রকল্পের ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতির অভিযোগ বেশ আলোচিত। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকী জড়িত। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এই প্রকল্প নিয়ে আরও অধিকতর অনুসন্ধান করা। তিনি বলেন, কোনো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি মানে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া। অনেক প্রকল্পের মতো রূপপুর প্রকল্পেও তাই করা হয়েছে। সুতরাং বিষয়টিকে সেভাবে দেখে তদন্ত করা দরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মেগা দুর্নীতির একটি হচ্ছে রূপপুর প্রকল্প। বিএনপি সরকার সেই দুর্নীতির দায় না নিয়ে ঠিকমতো তদন্ত করলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসবে।মঙ্গলবার রূপপুর কেন্দ্রের একটি ইউনিটের জ্বালানি লোড করা হয়। এর ফলে রূপপুর থেকে আগস্টে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

যেভাবে ব্যয়বহুল রূপপুর কেন্দ্র : ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুনেলভেলি জেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে দেশটির বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট। নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের ভিত্তিতে এটি নির্মাণ করছে রুশ প্রতিষ্ঠান রোসাটমের শতভাগ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।

এই রোসাটমই পাবনার রূপপুরে নির্মাণ করছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির নির্মাণ ও উৎপাদন সম্পর্কে তুলনামূলক ব্যয়ের বিশ্লেষণ করেছেন বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামীসহ যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন গবেষক। আন্তর্জাতিক জার্নাল স্প্রিঙ্গারে ‘এস্টিমেটিং দি ইকোনমিক কস্ট অব সিটিং আপ আ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট অ্যাট রূপপুর ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে তাদের এই গবেষণা ও বিশ্লেষণ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়েছে।

ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় উৎপাদন ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৬ সেন্ট। অথচ কুদানকুলামে নির্মাণাধীন তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের ক্ষেত্রে তা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ সেন্ট করে। সে হিসাবে রূপপুরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে কুদানকুলামের চেয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদকাল ও গড় উৎপাদন হিসাব করে ইউনিটপ্রতি এ উৎপাদন ব্যয় (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি বা এলসিওই) বের করা হয়েছে।

ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় উৎপাদন ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৬ সেন্ট। অথচ কুদানকুলামে নির্মাণাধীন তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের ক্ষেত্রে তা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ সেন্ট করে। সে হিসাবে রূপপুরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে কুদানকুলামের চেয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদকাল ও গড় উৎপাদন হিসাব করে ইউনিটপ্রতি এ উৎপাদন ব্যয় (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি বা এলসিওই) বের করা হয়েছে।

বিশ্ব পরমাণু সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাবতীয় সুদ বাদ দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মূলধনি ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। কুদানকুলামের নির্মীয়মাণ ইউনিট দুটিতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৬২৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে রূপপুরের ক্ষেত্রে কিলোওয়াটপ্রতি নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ২৭১ ডলারে। অন্যদিকে কুদানকুলামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে তা ৩ হাজার ১২৫ ডলার। তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণ ব্যয় ওঠানামা করতে পারে কিলোওয়াটপ্রতি ২ হাজার ৫০০ ডলার থেকে ৩ হাজার ৭৫০ ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা পড়তে পারে প্রতি কিলোওয়াটে ৪ হাজার ২১৭ থেকে ৬ হাজার ৩২৬ ডলারে।

এই গবেষণাপত্রের অন্যতম গবেষক বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামী মঙ্গলবার জানান, একই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিবেশী দুই দেশে কত দামে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাচ্ছে, তার তুলনা করা হয়েছে ওই গবেষণা পেপারে।এশিয়া নয়, ইউরোপের চেয়েও নির্মাণ ব্যয় বেশি : ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার এজেন্সিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট নির্মাণ ব্যয় ১ হাজার ৫৫৬ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা) থেকে ৫ হাজার ৮১ ডলার (৬ লাখ ২৪ হাজার)। কিন্তু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট নির্মাণ ব্যয় ৫ হাজার ৮৯০ ডলার (৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৭০ টাকা)। এমনকি যে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে, সেখানেও একই প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট নির্মাণ ব্যয় ৪ হাজার ৭৫ ডলার। শুধু যুক্তরাজ্য ও হাঙ্গেরিতে এই ব্যয় ৬ হাজার ডলারের বেশি। সেখানে পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তায় বেশি ব্যয় করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

রাশিয়ার রোসাটম ফিনল্যান্ডে ১২০০ মেগাওয়াটের ভিভিইআর প্রযুক্তির একটি পারমাণবিককেন্দ্র নির্মাণ করছে। এটি নির্মাণে ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। এখানে ইউনিটপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৫ হাজার ডলার।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তুলনামূলক কম টাকায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে তুরস্কে। তুরস্কের আক্কুইউ কেন্দ্রটি থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। চার ইউনিটের এ কেন্দ্রের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রতি ইউনিট কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ৩ হাজার ২০০ ডলার।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে রূপপুরের প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। এ ব্যয়ের মধ্যে ৯০ শতাংশ ঋণ বাংলাদেশকে দিচ্ছে রাশিয়া। বাকি ১০ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশ সরকার জোগান দেবে। রূপপুরে শুরুর দিকে প্রকল্পের সমীক্ষা, ভূমি উন্নয়ন, নকশা প্রণয়ন এবং কিছু ভৌত অবকাঠামোর কাজে ব্যয় হয়েছে ৫৫ কোটি ডলার। এই ব্যয় সাধারণ চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় দাঁড়াবে ১৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। সূত্র যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!