কুষ্টিয়ায় হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩১ জন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ও ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছরে জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে আরও ৫০৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাত বছর বয়সী শিশু রাইছকের মা জানান, হঠাৎ জ্বর ও পাতলা পায়খানা শুরু হয় তাঁর সন্তানের। পরে শরীরে দানা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আগের তুলনায় শিশুটি কিছুটা সুস্থ।
একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। তাঁর পরিবারের আরও দুজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত এবং ডেঙ্গু রোগীরাও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, জেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরপরও অনেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁদের অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপও বেশ রয়েছে।