• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গাংনীর মাথাভাঙ্গা নদীতে ডু’বে গৃহবধূর মৃ’ত্যু ৪ বছর পরও কাটেনি নদী পাড়ের দু’র্ভো’গ, সেতুর অপেক্ষায় হাজারো মানুষ সেই ওসির বি’রু’দ্ধে রা’ষ্ট্র’দ্রো’হ মা’ম’লা, পাঁচ দিনের রি’মা’ন্ড থানার দরজা ভে’ঙে পা’লা’ল ১৭ কি’শোর গ্যাং স’দ’স্য ভারতে পর্যটকবাহী বাসে আ’গু”ন, নি’হ’ত ৯ কুষ্টিয়ায় জমিজমা সং’ক্রা’ন্ত বি’রো’ধ নিয়ে প্রা’ণ’না’শের হু’ম’কির থানায় অ’ভি’যোগ অপ্রতিম হ’ত্যা’কা’ণ্ডে আ’সা’মি’দের পক্ষে ল’ড়’বেন না কোনো আ’ই’নজীবী মাদ্রাসায় না’রী’র স’ঙ্গে শিক্ষকের অ’ন্ত’র’ঙ্গ মু’হূ’র্তে’র ভি’ডি’ও ভাত খাওয়ার কথা বলে স্কুলছাত্রীকে ধ’র্ষ’ণে’র অ’ভি’যো’গ, কুমারখালীতে কি’শো’র গ্রে’প্তা’র সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অ’নু’মোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

৪ বছর পরও কাটেনি নদী পাড়ের দু’র্ভো’গ, সেতুর অপেক্ষায় হাজারো মানুষ

notuntimes / ৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪ বছর পরও কাটেনি নদীর পাড়ের দুর্ভোগ, সেতুর অপেক্ষায় হাজারো মানুষ

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপূজার মহালয়ার দিন।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আউলিয়ারঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা করতোয়া নদীতে ডুবে যায়। মুহূর্তেই বদলে যায় অসংখ্য পরিবারের জীবন।শিশুসহ প্রাণ হারান ৭২ জন। জেলার ইতিহাসে ভয়াবহ সেই নৌ-দুর্ঘটনা আজও মানুষের মনে দাগ কেটে আছে।সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার প্রায় দুই বছর পর ২০২৪ সালে নদীটির ওপর পৃথক দুটি স্থানে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ।দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের আশায় স্বস্তি ফিরেছিল দুই পাড়ের মানুষের মনে।
কিন্তু সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার চার বছর পরও পুরোপুরি শেষ হয়নি প্রকল্প। ফলে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করতোয়া নদী পার হচ্ছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। একদিকে চার বছর আগের সেই ভয়াবহ স্মৃতি, অন্যদিকে প্রতিদিনের নদী পারাপারের ঝুঁকি সব মিলিয়ে সেতুর অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেতু নির্মাণের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এতে নদী পারাপারে তাদের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।আলিয়ার রহমান ও রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে তাদের। এতে দুর্ভোগ ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ চললেও এখনো তা শেষ হয়নি। দ্রুত দুটি সেতুর কাজ শেষ করে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে যাতায়াতে সুবিধা হবে বলে জানান তারা।

মাহমুদুল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, নদী পার হতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই নৌকায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। তার আশঙ্কা, যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী করছে, তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।

এদিকে সম্প্রতি নিজ নির্বাচনী এলাকার আউলিয়ারঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। পরিদর্শন শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সংশ্লিষ্টদের বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অনিয়ম হলে একটি একটি করে তা বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পঞ্চগড় এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনোজ কুমার আচার্য্য জানান, প্রায় ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আউলিয়ারঘাট-কালিয়াগঞ্জ রুটে ৩৪৫ মিটার এবং মাড়েয়া-বড়শশি রুটে ৫৪৫ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর অধিকাংশ নির্মাণকাজও শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কিছু কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।চার বছর আগে করতোয়া নদীর সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল ৭২টি প্রাণ। এরপর স্থায়ী সেতুর স্বপ্ন দেখেছিলেন দুই পাড়ের মানুষ। নির্মাণকাজ শুরু হলেও সেই স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তব হয়নি। তাই প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা শেষ করে নিরাপদ পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!