• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

খলিসাকুন্ডিতে আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা থাকে না

notuntimes / ১৩৮ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ৬ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা থাকে না।প্রায় রাতই ভ্যাপসা গরমে জন্য নির্ঘুম থাকতে হচ্ছে।

বিরক্তিভরা কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা সাবেদ গাজী। শুধু সাবেদ গাজী নয় খলিসাকুন্ডিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।

স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন বিপাকে। পাশাপাশি ইরি ধানে ঠিক মত সেচ দিতে পারছেন না তারা। পাশাপাশি পোল্ট্রি খামার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এ ছাড়া বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা কৃষক বজলু বলেন, আগে বিদ্যুৎ খুব ভালো ছিল। কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। অন্যদিকে রাত ১১টার পরে দুই-এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। পরে আর বিদ্যুতের কোনো খবরই থাকে না।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের অভাবে বিশেষ করে ইরি ধানের ঠিক সেচ দেওয়া হচ্ছে না। ঠিক মতো পানি দেওয়া না গেলে ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চলমান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমত পড়াশোনা করতে পারছি না। গরমে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।

কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি বাজারের মেহেদী জানান.লোডশেডিং এতো তীব্রই যে আইপিএসের চার্জ পর্যন্ত শেষ হয়ে যায়। এতে দোকান অন্ধকার হয়ে যায়। প্রচন্ড গরমে ক্রেতারা বসতে চায় না। ফলে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খলিসাকুন্ডি শাখার ইনচার্জ ইমাম আলী জানান বলেন, আমাদের ইউনিয়নে মোট গ্রাহক সংখ্যা ১২ হাজার।চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৪ মেগাওয়াট। কিন্ত গত দুই সপ্তাহ ধরে ২ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় অর্ধেক মেগাওয়াট কম পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে লোডশেডিং হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি ঘণ্টাই বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ আপ-ডাউন করে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!