খুলনা রেঞ্জের নতুন ডিআইজি কে এই রেজাউল করিম
খুলনা রেঞ্জের নতুন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রেজাউল করিম। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে খুলনা রেঞ্জে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরে অপারেশন্স শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা রেজাউল করিম বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশি কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের অপারেশন্স সমন্বয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশের একজন দক্ষ, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে তার সুনাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
রেজাউল করিম ১৭ তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তার বাড়ি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলায়। একজন দক্ষ, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে তার সুনাম থাকলেও ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এছাড়া একই কারণে তাকে পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন করা হতো।রেজাউল করিমকে নিয়ে আলোচনার বড় একটি অংশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ের পুলিশি কার্যক্রম ঘিরে। ওই সময় পুলিশি কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে ৮ আগস্ট তিনি ডিআইজি (অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পুলিশ সদস্যদের মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে ফেরানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়ে ভূমিকা রাখেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সমন্বয় করা হয়। এতে ৪ হাজার ৪৩৫টি অস্ত্র এবং ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন তিনি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে গঠিত ন্যাশনাল অপারেশন্স মনিটরিং সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও তিনি পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ের নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়া তার নেতৃত্বে ন্যাশনাল অপারেশন্স মনিটরিং সেন্টার থেকে প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান, অপারেশন্স ডেভিল হান্ট, অপারেশন্স ডেভিল হান্টের (ফেইজ-২) মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার করে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট, ১০ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর এর বিভিন্ন কর্মসূচির নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের নাশকতা/বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে তা শক্ত হাতে দমন করেন রেজাউল করিম।রেজাউল করিম সাবেক আইজিপি কাইয়ুমের স্টাফ অফিসার ছিলেন, এরপর তিনি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার, এআইজি প্রশাসন, অতিরিক্ত ডিআইজি লজিস্টিকের দায়িত্ব পালন করেন। লজিস্টিকের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে পুলিশের গম এবং চালের মান উন্নয়ন হয়। এরপর স্পেশাল ক্রাইম এবং সবশেষে ডিআইজি অপারেশন্সের দায়িত্বে থাকাকালীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংঘাতমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখেন তিনি।