জানুয়ারি-মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
পাভেল আজিম::;::
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। কুষ্টিয়ায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পভুক্ত গড়াই অনেক স্ট্রাকচার নির্মাণ স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মাছের উৎপাদন বাড়বে। সেইসঙ্গে যুক্ত হবে আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন।’
পদ্মা ব্যারেজ ‘প্রজেক্ট মাস্টারমাইন্ড’ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রুপান্তর ও বিপ্লব ঘটবে জানিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলায় অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটাবে, কৃষি বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাছের চাষ হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরও অনেক আধুনিক প্রযুক্তি যোগ হবে। এই প্রকল্পটি ২০০৪ সাল থেকে মরহুম সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় থেকে সমীক্ষা করে এমনভাবে নিয়ে এসেছি, যা আজ ২০২৬ সালে একনেকে পাশ করিয়েছি।’
বিএনপির নির্বাচনি ইস্তেহারের কথা তুলে ধরে এ্যানি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে আপনাদের ওয়াদা দিয়েছিলে, নির্বাচনের ইশতেহারে নিয়ে এসেছিলেন। আজ তার হাত ধরে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এজন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং ২৪টি জেলার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”
এ সময় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিনসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পানিসম্পদ মন্ত্রী কুষ্টিয়ায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পভুক্ত গড়াই অনেক স্ট্রাকচার নির্মাণের স্থান পরিদর্শন আসেন। তিনি পদ্মা থেকে গড়াই নদের উৎপত্তি স্থলে এ প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মন্ত্রীর সামনে প্রকল্পের বিষয় তুলে ধরেন।
কর্মকর্তারা বলেন, গড়াই নদের উৎসমুখে অফটেক চ্যানেলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে। এতে সারাবছর এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। পাশাপাশি এই চ্যানেলের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি গড়াই নদে প্রবাহিত হবে। এছাড়া দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া হিসনা নদীও এই প্রকল্পেন আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ রোড, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ার গড়াই ও হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতাভুক্ত রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদমন্ত্রী কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।