কুষ্টিয়ার খোকসায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদ
সুমন শেখ, স্টাফ রিপোর্টার , কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জানিপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন ৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প স্থানীয় কৃষি, সেচ ব্যবস্থা ও পরিবেশ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সরকারের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায় পরিচালিত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পাচ্ছেন বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩ কোটি ৯ লক্ষ টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খালগুলো পুনরায় সচল হয়েছে । এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হচ্ছে। এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী খালের বিভিন্ন অংশে পুনঃখননের কাজ সরকারি নীতিমালা মেনে জনস্বার্থে করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত তদারকি করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, খাল পুনঃখনন কাজ শেষ হওয়ায় জানিপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষক, জেলে ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। খালগুলো সচল হওয়ায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
খোকসা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দোস্তদার হোসেন বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে এলাকার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে জানিপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নে কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হচ্ছে । সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করছে বলেও তারা মনে করছেন।