• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বালুবোঝাই ট্রাক ও বাসের সং’ঘ’র্ষে অন্তত ১৪ জন নি”হ”ত কুমিল্লায় ৯ মাসে ১১১ খু”ন, ধ”র্ষ”ণ ১৩৯ নি’রাপ’ত্তা নিয়ে উ’দ্বে’গ ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় হা’ম ও ডে’ঙ্গুতে ৫৯ রোগী ভ’র্তি:চলতি বছরে হামের উ’প’সর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃ”ত্যু, ডেঙ্গুতে ৪ জন   লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে বো”মা উ’দ্ধা’র চা’র্জ’শি’ট দেয়নি পুলিশ বি’চা’র শুরুর অপেক্ষা কা’লো তা’লি’কা’ভু’ক্ত প্র’তি’ষ্ঠা’ন পে’ল সা’রের ডিলা’রশিপ ৮-১০ লা’খে যুব উন্নয়নের প্র’শ্ন”ফাঁ’স, গ্রে’প্তা’র ৭ জনের ৫ জনই স’র”কা’রি ক’র্ম’চারী রাবি শিক্ষার্থীর গাড়ির ধা’ক্কা’য় রিকশাচালক নি”হ”ত, আ’হ’ত ২ ১১ দলের লং মার্চের ৭ দ’ফা দা’বি কোটি মানুষের প্রা’ণের দা’বি: কুষ্টিয়ায় লংমার্চে সভাস্থল প’রি’দর্শনে -মোবারক হোসাইন আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

দৌলতপুরে নি’ষেধাজ্ঞা অ’মান্য করে স’ন্ত্রাসী পাহারায় পদ্মা নদী থেকে তোলা হচ্ছে বালু

notuntimes / ১৭৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ত্রাসী পাহারায় পদ্মা নদী থেকে অবাধে তোলা হচ্ছে বালু। ফলে প্রতিনিয়ত ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। হাইকোর্ট, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটি এর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজায় ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের একটি অংশের পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ড্রেজার ও বলগেট ব্যবহার করে দিন-দুপুরে বালু তোলা হচ্ছে।

আর বালু তোলায় নিরাপত্তা দিচ্ছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া জেলার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী চক্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই স্থানীয়দের পড়তে হয় অস্ত্রের মুখে। হতে হয় হামলার শিকার।

অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে হাজারো পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফিলিপনগর-ইসলামপুর নদী রক্ষা স্থায়ী বাঁধ। তবুও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তা কাজে আসছে না।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার চৌদ্দহাজার মৌজায় বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পুনরায় সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নিষিদ্ধঘোষিত দলের সাবেক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স সরকার ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই অবৈধ বালু ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর মৌজায় ২৪ একর বৈধ ইজারা পেলেও সেখানে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় তারা পদ্মার অপর পাড়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় গিট্টু ও সোহাগ বাহিনী নামে পরিচিত একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল।

বালু উত্তলনকে কেন্দ্র করে গত ১১ জুলাই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর ঘাটে স্পিডবোর্ডযোগে এসে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে স্থানীয় কামরুল গাইনের ভাই আমরুল গাইন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি অবিলম্বে চৌদ্দহাজার মৌজায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় আনা হোক। তা না হলে এনিয়ে আবারও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মেসার্স সরকার ট্রেডার্স এর মালিক এস. এম. একলাস আহমেদ বলেন, আমি রাজশাহীর বাঘায় বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি। কেউ যদি ইজারার বাইরে অন্য জেলায় বালু উত্তোলন করে, সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি আমি দেখছি।

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। যদি দৌলতপুর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, ২৪ একরের বাইরে বালু উত্তোলন হলে তা বেআইনি। সে ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী জানান, ইজারাপ্রাপ্ত এলাকার বাইরে কোথাও বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পদ্মা নদীর দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার বিএম নুরুজ্জামান বলেন, অস্ত্রসজ্জিত সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী পদ্মা পাড়ের মানুষ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তা না হলে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষ এবং চৌদ্দহাজার মৌজার জমির মালিকরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন এমনও কথা তারা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!