ইবি’র রনজিতপুরের মেয়ে নির্যাতনের শিকার আত্মহত্যা
তিতাস আহম্মেদ
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন উজানগ্রাম ইউনিয়নের রনজিতপুর গ্রামের হারুন উর রশিদের মেয়ে নিহত মেঘনা খাতুন(২১)। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়াগড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের গোলাম আজমের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভালোবেসে গোলাম আজমের সঙ্গে মেঘনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ফুপাতো বোনের এক বান্ধবীর সঙ্গে ফেসবুকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। এই পরকীয়ার বিষয় নিয়ে গত শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে গোলাম আজম মেঘনাকে মারধর করেন এবং গলা চেপে ধরেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরদিন রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অভিমানে গলায় ফাঁস দেন মেঘনা। তবে আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর মৃত্যুর জন্য স্বামী গোলাম আজম, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।মেঘনার স্বামী বাড়ি কবরস্থ করা হয়।
এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী গোলাম আজমসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। যে কারণে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।