• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নে”শা’র টা’কা না পেয়ে মা’কে গ”লা কে”টে হ”ত্যা’র অ’ভি’যো’গ, ছেলে আ’ট’ক বালুবোঝাই ট্রাক ও বাসের সং’ঘ’র্ষে অন্তত ১৪ জন নি”হ”ত কুমিল্লায় ৯ মাসে ১১১ খু”ন, ধ”র্ষ”ণ ১৩৯ নি’রাপ’ত্তা নিয়ে উ’দ্বে’গ ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় হা’ম ও ডে’ঙ্গুতে ৫৯ রোগী ভ’র্তি:চলতি বছরে হামের উ’প’সর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃ”ত্যু, ডেঙ্গুতে ৪ জন   লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে বো”মা উ’দ্ধা’র চা’র্জ’শি’ট দেয়নি পুলিশ বি’চা’র শুরুর অপেক্ষা কা’লো তা’লি’কা’ভু’ক্ত প্র’তি’ষ্ঠা’ন পে’ল সা’রের ডিলা’রশিপ ৮-১০ লা’খে যুব উন্নয়নের প্র’শ্ন”ফাঁ’স, গ্রে’প্তা’র ৭ জনের ৫ জনই স’র”কা’রি ক’র্ম’চারী রাবি শিক্ষার্থীর গাড়ির ধা’ক্কা’য় রিকশাচালক নি”হ”ত, আ’হ’ত ২ ১১ দলের লং মার্চের ৭ দ’ফা দা’বি কোটি মানুষের প্রা’ণের দা’বি: কুষ্টিয়ায় লংমার্চে সভাস্থল প’রি’দর্শনে -মোবারক হোসাইন

কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাসের সংকট এখনো চড়া দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের

notuntimes / ২৯৪ Time View
Update : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

দুই সপ্তাহেও কাটেনি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সংকট। এখনো চড়া দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। চাহিদা বাড়লেও গত বছর উল্টো এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন। জ্বালানি বিভাগ বলছে, আমদানি ও বাজারজাতকরণ হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়ায় প্রায়ই এলপিজি গ্যাসের দোকানে সারিবদ্ধভাবে পড়ে আছে খালি সিলিন্ডার।

জানা গেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটর কমিশন (বিইআরসি) গত বছরের গত ২ ডিসেম্বর জারিকরা বিজ্ঞপ্তিতে ভোক্তা পর্যায়ে এলজিপি গ্যাসের দাম নির্দারন করে দেয়। সেখানে বলা হয়-১২ কেজি সিলিন্ডার ১২৫৩ টাকা, সাড়ে ১ কেজি ১৩০৫ টাকা, ১৫ কেজি ১৫৬৬ টাকা, ১৮ কেজি ১৮৮০ টাকা, ২২ কেজি ২২৯৮ টাকা এবং ৩০ কেজি ৩১৩৩ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কোনো পর্যায়ে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা যাবে না। অথচ সেই নির্দেশনারকোনো প্রতিফলন নেই। কয়েক দিনের ব্যবধানেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন চড়া দামে গ্যাসের সিলিন্ডার খুচরা বিক্রি করেন। দোকানগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস সরবরাহ সীমিত বা বন্ধ করে দিচ্ছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দামে দিয়েও ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। দোকানে গ্যাস চাইলে বলে, নেই। অতিরিক্ত দামে গোপনে একেক দোকানে একেক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনছে। বসুন্ধারা, ওমেরা, বেক্সিমকো, টোটালসহ কোম্পানির গ্যাস অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দামের কারণে দোকানদার ও ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায় বাগবিত-া ও ঝামেলা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,বাজারের সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রেতাদের মূল্য তালিকা টানানো নেই। বিক্রিত গ্যাসের কোনো ধরনের ক্যাশম্যামো দেয়া হয় না। এদের দেখভালোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না। বাজার মনিটরিং এবং সঠিক কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় এদের কাছে সাধারণ লোকজন জিম্মি হয়ে পরেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারে একজন ব্যসায়ী জানান, ডিলারদের গোডাউনে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। এর পরেও নানা অজুহাতে বেশি দামে বিক্রি করছে। যার ফলে আমরা সিলিন্ডারপ্রতি পাঁচ থেকে সাতশ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জ্বা লানি খাতে এলপিজির গুরুত্ব বাড়ছে; তাই এই ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার নামে হয়রানি দূর করা জরুরি।

ক্রেতারা জানান, এলাকার দোকানগুলোতে এলপিজি মিলছে না। বিভিন্ন জায়গা খুঁজে দু-একটি পাওয়া গেলেও, ১৩০৬ টাকার সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়।

এলাকাটির এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, ‘খুবই কষ্টে আছি। বাজারে গ্যাস নেই। মাঝেমধ্যে দ্বিগুণ দামে কোনোমতে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’

দেশে প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে এলপিজির চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বিইআরসির তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের চেয়ে গত বছর আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন। ডিলারদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ মিলছে না।

একজন এলপিজি বিক্রেতা বলেন, ‘গাড়ির সঙ্গে নির্ধারিত ভাড়ার চুক্তি থাকলেও মালামাল পেতে ৩-৪ দিন দেরি হচ্ছে। ফলে ভাড়ার খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিটি সিলিন্ডারের পেছনে আমাদের বাড়তি ১৫০–২০০ টাকা নিতে হচ্ছে।’

দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে নিজস্ব ফিলিং প্ল্যান্ট আছে ৩২টির। গত বছর বিভিন্ন সময়ে ১৭টি কোম্পানি আমদানি করলেও নিয়মিত আমদানিতে ছিল মাত্র ৮টি কোম্পানি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু নিয়মিত অপারেটরও গত দেড় বছরে তাদের আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।’

এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য কমপক্ষে ২৬টি সরকারি সংস্থার লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর এগুলো নবায়নে নির্ধারিত খরচের বাইরেও বাড়তি অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়। এই প্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ‘রেগুলেটরি প্রক্রিয়ায় এমন জটিলতা থাকলে তা বিনিয়োগের জন্য বাধা। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে না এবং বর্তমান ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।’

এদিকে, আসন্ন রমজানের আগে এলপিজি সংকট দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির বকেয়া পরিশোধে সুবিধা বাড়িয়েছে এবং আমদানির অনুমোদিত সীমা বৃদ্ধি করেছে বিইআরসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!